দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়স বছর নয়। মঙ্গলবার রাতে ছোট্ট মেয়েটাকে যখন অর্ধনগ্ন অবস্থায় জঙ্গলের ধার থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল, তার শরীরে সাড় ছিল না। তবে প্রাণটা তখনও ধরে রাখতে পেরেছিল। সারা শরীরে অসংখ্য কালশিটের দাগ। গলার কাছে রক্ত শুকিয়ে জমাট বেঁধে আছে। ছিন্নভিন্ন যোনি। হাসপাতালে কয়েক ঘণ্টার লড়াই শেষে জীবনের আলো নিভে যায়।
ঘটনাস্থল সেই উন্নাও। তরুণী গণধর্ষণ ও তাঁকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার ঘটনায় কেঁপে উঠেছিল সারা দেশ। একের পর এক দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়েছিল তরুণীর পরিবারকে। গাড়ি চাপা দিয়ে খুন করার চেষ্টা হয়েছিল তরুণীর পরিবারকে। সেই ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গারের বিরুদ্ধে মামলা চলছে এখনও। তার মাঝেই হোলির দিনে ফের ধর্ষণের শিকার হতে হয় এক নাবালিকাকে।
হোলির উৎসব চলার সময়েই অপহরণ করা হয় কিশোরীকে। গ্রামের বাইরে এক জঙ্গলের ধারে নিয়ে গিয়ে নির্মম নির্যাতন চালানো হয় মেয়েটার উপরে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে মৃত্যুর কারণ গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ এবং রক্তক্ষরণ। ধর্ষণের পরেও ঘণ্টা খানের মেয়েটার উপর অমানুষিক নির্যাতন চালায় অপরাধী। তারপর গলা টিপে তাকে খুন করার চেষ্টা হয়। তদন্তকারীদের অনুমান গলায় কিছু দিয়ে ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। কারণ মেয়েটার গলায় গভীর ক্ষতের দাগ ছিল। কিশোরী অজ্ঞান হয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়েছে ভেবে সেখান থেকে চম্পট দেয় অপরাধী।
পাটান কমিউনিটি হেল্থ সেন্টারে প্রথম নিয়ে যাওয়া হয় কিশোরীকে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ভর্তি করা হয় এলএলআর হাসপাতালে। সেখানেই মৃত্যু হয় ওই কিশোরীর। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় মেয়েটার। সারা শরীরে ২৪টিরও বেশি দগদগে ক্ষতের দাগ ছিল। ধাতব কিছু দিয়ে ছিন্নভিন্ন করা হয়েছিল যোনি। ছিঁড়েখুঁড়ে গিয়েছিল মেয়েটির নাড়িভুঁড়িও। শরীরের ভেতরে এতটাই রক্তক্ষরণ হয় যে তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এডিজি (লখনৌ জোন) এসএন সাবাত বলেছেন, মেয়েটির চুল ও নখের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। নখের মধ্যে আটকে থাকা চামড়ার অংশের ডিএনও পরীক্ষা করা হবে। সন্দেহভাজনদের ডিএনএ পরীক্ষা করে সেটা মিলিয়ে দেখা হবে ওই ডিএনএ-র সঙ্গে। তদন্তকারীদের অনুমান, গ্রামেই কোথাও লুকিয়ে আছে অপরাধী। ডিএনএ টেস্টেই মিসবে তার খোঁজ। পুলিশ জানিয়েছে, জেরা করা হচ্ছে গ্রামের প্রতিজনকে। সেদিন হোলি উৎসবে যাঁরা হাজির ছিলেন তাঁদের বয়ান আলাদা করে রেকর্ড করা হচ্ছে।
“মেয়ের দেহ দাহ করতে চাই না। যতদিন না অপরাধী ধরা পড়ছে মেয়ের শেষকৃত্য হবে না,” বলেছেন সন্তানহারা বাবা। উন্নাওয়ের পুলিশ সুপার বিক্রান্ত বীর বলেছেন, মেয়েটির দাদু ও মামাকেও অনুরোধ করা হয়েছে শেষকৃত্যের কাজ করার জন্য। তবে কেউই রাজি হচ্ছেন না। এদিকে গ্রামেও ক্ষোভ জমা হতে শুরু করেছে। অপরাধীর শাস্তির দাবিতে মুখর সকলেই। অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।