
গ্রাফিক্স: শুভম সেনগুপ্ত
শেষ আপডেট: 23 February 2025 20:22
‘রামবাবুর আমবাগান’ (Malda Mango) বদলে যাচ্ছে ‘আমবাবুর রামবাগান’-এ; ‘আমের রস’ নাকি উচ্চারিত হয় ‘রামের অস' হিসেবে—ক্লাসের ছেলেমেয়েদের জন্য নোট বানাতে বসে বরেন্দ্রী উপভাষার এহেন ধ্বনিতাত্ত্বিক স্বেচ্ছাচারিতায় বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূমিপুত্র হিসেবে আঁতে ঘা লাগল শোভনের। ক্লাসে পড়াতে গিয়ে এসব বলব যখন, সবাই হেসে কুটিপাটি যাবে৷ পরিস্থিতি সহজ করতে তাকেও মৃদু দন্তবিকশিত করতে হবে। অথচ উত্তরতিরিশ পেরিয়ে আজ পর্যন্ত জেলার আনাচে-কানাচে কোত্থাও এমন বিদঘুটে আর্ষপ্রয়োগ শোনেনি সে। বাধ্য হয়ে দ্বন্দ্বনিরসনে পিতৃদেবের শরণাপন্ন হতে হল। সমস্যার কথা জানাল। ব্যাকরণ বইয়ের পাতা খুলে লিখিত প্রমাণ দাখিল করতে হল৷ খানিক বাদে চশমা নামিয়ে গম্ভীর মুখে ভেসে এল জবাব—“আমের (Best Malda Mango) কথা উঠলে যদি কেউ লুত্তি পোকা আর শোষক পোকার ফারাক জানতে চায়—উত্তর দিতে পারবি?”
মাথা কিঞ্চিৎ ঘেঁটে গেল এবং গরম হল৷ তবু বিনয়ের সঙ্গে জবাব দিল শোভন—“বাবা, আমায় ব্যাকরণ পড়াতে হয়, হর্টিকালচার নয়। লুত্তি পোকায় ক্লাসের কেউ গোঁত্তা খাবে না। আপাতত এই ‘অস’ আর ‘রসে'-র ব্যাপারে যদি কিছু…”
কথা শেষের আগেই চেয়ার থেকে ছিটকে উঠলেন শোভনের বাবা—“মালদার ছেলে হয়ে আমের (West Bengal best mango) খুঁটিনাটি জানিস না—বিন্দুমাত্র লজ্জা আছে? জার্গন নিয়ে জাগলিং আর বুলি নিয়ে ডাংগুলি খেলে ভাষাটারও সাড়ে বত্রিশভাজা করে ছেড়েছিস। এভাবে চললে দিনের শেষে আমও যাবে ছালাও যাবে। তোদের হাতে থাকলে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাটাই আল্টিমেটলি কাঁঠালের আমসত্ত্ব… আমি জানি না। যা ভালো বুঝিস কর।”
“আরে রাগ করো কেন? না হয় একটু কম জানি। শেখাতে দোষ কী? আচ্ছা বাবা, আমের মুকুল কি ফাল্গুন মাসে ধরে?”—পরিস্থিতি সহজ করতে শোভনকে সরাসরি চক্রব্যূহের অভ্যন্তরে ঢুকতেই হল এবং ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে ধেয়ে এল শক্তিশেল—“এই দ্যাখ, এই হচ্ছে তোর দৌড়! রবি ঠাকুরের ছড়াটাকে সুর করে পড়েই গেছিস৷ কখনও দু-চোখ মেলে দেখিসনি। ফাল্গুনে কাঞ্চন ফুল ‘বিকশিত’ হয় আর আম্রমুকুল ‘পুঞ্জিত’। মানে ততদিনে শাখায় শাখায় মুকুল ধরে পুঞ্জে পুঞ্জে, থোকায় থোকায় জমতে শুরু করেছে৷ বলি ‘বিকশিত’ আর ‘পুঞ্জিত’ এক? আমও যা আলুবোখারাও কি তাই? আম্রমুকুল বিকশিত হয় ফাল্গুনের আগে—মাঘের মাঝামাঝি সময়ে। মাথায় ঢুকেচে?”
যুগপৎ হর্টিকালচার এবং বাংলা কাব্য সাহিত্যে নিজের নাদানত্ব ফালা ফালা হতে দেখে শোভন পুরোপুরি নির্বাক। প্রতিপ্রশ্ন করা ধকে কুলিয়ে উঠল না এবং শিকারকে ফাঁদে পড়তে দেখে তাঁর বাবাও আস্তিন গুটিয়ে আসরে নেমে পড়লেন।
‘‘আমাদের আঞ্চলিক ভাষায় গাছের মুকুলকে বলে ‘মউল’। সেটা ধরতে শুরু করে শীত আর বসন্তের সন্ধিক্ষণে। অগ্রহায়ণ চলে গেল৷ পৌষও যাব যাব করছে, মাঘ এসে কড়া নাড়ছে—মঞ্জরী জমার এই হচ্ছে প্রশস্ত সময়৷ মাঘ মাসে শীতের প্রকোপ কমতে শুরু করলে আর তেজালো রোদ গা ঝাড়া দিয়ে উঠলে মুকুল ভরভরিয়ে ওঠে। কিন্তু নাছোড়বান্দা শীত যদি যাব যাব করেও যেতে না চায়, রোদের দাপট না থাকে, তাহলে চাষিদের মুখের হাসি পলকে মিলিয়ে যায়। ‘মুকুল মুখে চলে এসেছে, ডগাটা ফেটে আছে। কিন্তু ঠান্ডাই তো ছাড়ছে না—বেরোবে কীভাবে?’—গুঞ্জরিত হাহুতাশ মাইল-কে-মাইল আম-বাগিচায় সঞ্চারিত হয়৷’'
সাতসকালে অবসাদ নয়৷ ফলে জিজ্ঞেস করতেই হল—“তাহলে এর থেকে রেহাই?”
একগাল হেসে বাবার উত্তর—“সব কি আর আমাদের হাতে থাকে? এই প্রাক্-বসন্তে যদি জার (শীত) কমে গিয়ে রোদের তেজ বাড়তে থাকে আর সেই সঙ্গে জুড়ে যায় পশ্চিমা উষ্ণ বাতাস, যাকে আমরা পাছিয়া বলে থাকি, তবে তো সোনায় সোহাগা! মঞ্জরীর গুচ্ছে সেজে ওঠে বাগান।”
“তাহলে শীত থাকা যাবে না, রোদ উঠবে অফুরান আর লাগবে পশ্চিমা বাতাস—এই তিনটে শর্ত পূরণ হলেই গাছ মুকুলিত হবে?”—স্বচ্ছ ধারণা পেতে প্রশ্ন ছুড়ে দিল শোভন।
“মূলত এই তিনটেই জরুরি। কিন্তু এ ছাড়া আরেকটা চরিত্র রয়েছে৷ আকারে ছোটো। কিন্তু তারও ভূমিকা বেশ জোরদার। এর নাম লুত্তি পোকা৷ একে আমগাছের উপকারী পোকা বলতে পারিস৷ এরা মঞ্জরীকালীন অবস্থায় গাছে আক্রমণকারী বিভিন্ন জীবাণুকে খতম করতে থাকে৷ লুত্তি পোকা আসে ঝাঁকে ঝাঁকে৷ আমের ফলনে এদের বড়োসড়ো হাত রয়েছে৷ যদিও ইদানীং যথেচ্ছ কীটনাশক স্প্রে করার ফলে লুত্তির আনাগোনা কমে গেছে৷ যেটা বেশ আশঙ্কার কথা।”
লুত্তি পোকার নাম শুনে একটু আগে বিরক্তি লাগলেও এখন বেচারিদের উপর খানিক মায়াই জন্মাল শোভনের। কী তুচ্ছ দেশজ নাম অথচ পরাক্রমশালী গ্ল্যাডিয়েটরের মতো আমবাগান রক্ষা করে চলে এই পোকা!
এই তদ্গত ‘পোকা-প্রীতি’ অবিশ্যি দীর্ঘস্থায়ী হল না। বেরসিক বাবাকে তক্ষুনি জুড়তে হল—“অবশ্য সব পোকা উপকারী নয়। যখন রোদ কমে গিয়ে আবার শীত বাড়তে থাকে, পাশাপাশি দেখা দেয় বৃষ্টি, আকাশ ছেয়ে যায় কালো মেঘে—তখন অপরিষ্কার গাছের ডালে বাসা বাঁধে শোষক পোকা। এরা অপকারী৷ মুকুলের রস শুষে তাকে ঝরিয়ে দেয়। সেই সময় বারবার স্প্রে করে মুকুলকে রক্ষা করতে হয়। আর এরপরই মঞ্জরী ফুটে আম বেরোতে থাকে। আমাদের মালদা এবং তৎসংলগ্ন বরেন্দ্রভূমি বিহার-ঘেঁষা। তাই দেখবি যে-কোনো নামপদের শেষে ‘ইয়া’ এবং ‘উয়া’ প্রত্যয়ের বাড়বাড়ন্ত। ‘বাবু’ হয়ে যায় ‘বাবুয়া’, ‘রঘু’ থেকে ‘রঘুয়া’৷ তো আকারভেদে এই প্রস্ফুটিত আমের দু-ধরনের নাম রয়েছে। প্রথম ধাপে, মিহি আকারের গুটি-আম যখন সবেমাত্র ফুটে বেরুচ্ছে তখন তাকে আঞ্চলিক ভাষায় বলা হয় ‘মুসারিয়া’। অর্থাৎ, এত ছোট্ট দানাদার আম, যে দেখে মুসুর ডালের কথা মনে পড়ে! মুসারিয়া ধরলে আমচাষিদের একটাই প্রার্থনা—আর যাই হোক, যেন বৃষ্টি না ঝরে৷ তাহলে এই পেলব গুটি-আম মুহূর্তে মাটিতে মিলিয়ে যাবে।"
“বৃষ্টি তার মানে আমচাষের অন্যতম খলনায়ক—কী বলো?”
চশমার কাচ পরিষ্কার করতে করতে শোভনের বাবা বললেন—“উত্তর হ্যাঁ এবং না—দুটোই। কারণ এই মুসারিয়া যখন আরেকটু শক্তপোক্ত হবে তখন কিছুটা বৃষ্টি জরুরি। এই পর্যায়ের গুটি-আমকে বলা হয় ‘মটরিয়া’। মানে মুসুর ডালের চেয়ে বড়ো, মটর ডালের সাইজের আম। মটরিয়া ধরতে শুরু করলে রোদ-বৃষ্টির ছন্দময় খেলা যদি জমে ওঠে, তবে আম তো পরিপুষ্ট হয়-ই; পাশাপাশি ডালপালায় দানা-বাঁধা জীবাণু ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যায়। ফলে বৃষ্টিকে পুরোপুরি শত্রু বলাটা ঠিক হবে না। ঠিক যেভাবে পশ্চিমা বাতাসও নিখাদ বন্ধু নয়।”
“সেটা কীরকম? পাছিয়া বাতাস তো আম চাষের পালে হাওয়া দেয় বলেই জানতাম!”
“ঠিক। কিন্তু তারও যাওয়া-আসার সময়ভেদ রয়েছে৷ মাঘ মাসে পশ্চিমা বাতাস বইতে শুরু করলে সেটা উপকারী। কিন্তু যদি এই বাতাস দেরিতে আসে, পিছিয়ে চৈত্র মাসে চলে যায়, তাহলে ফলনে ক্ষতিকর। মালদায় এই নিয়ে চালু ছড়া—‘চৈতের আট/ সব গাছ কাট।’ মানে চৈত্র মাসের আট তারিখে পশ্চিমা বাতাস শুরু হলে মুকুল যায় শুকিয়ে৷ তখন নিষ্ফলা গাছ থাকা না থাকা এক।”
মুকুল বুঝলাম। গুটি-আমও বুঝলাম৷ পোকা, বাতাস, বৃষ্টির কিস্যাও জানা হল৷ এ ছাড়া আর কোনো অনুঘটক? জিজ্ঞেস করতেই ভেসে এল উত্তর—“আরও আছে বৈকী! যেমন ধর পাতা। আমচাষিরা গাছের পাতা দেখে বুঝে যায় এবার আমের কেমন ফলন হবে৷ যদি চৈত্র মাসে পশ্চিমা বাতাস বইতে শুরু করে তাহলে কচি পাতা গাছের দুর্বল মুকুলের রস টেনে তাদের ঝরিয়ে দেয়৷ তখন স্রেফ ঝকঝকে পাতায় ভরে ওঠে গাছ, ফলের দেখা মেলে না৷ কিন্তু যদি ঠিক সময়ে পশ্চিমা বাতাস বয়, তাহলে কচি পাতা আর মুকুল-ফোটা গুটি-আম হাত ধরাধরি করে বেরিয়ে আসে৷ সেই সময় আমের রং হয় খোলতাই। আর গাছও ধরে বাহারি সাজ।”
“এবার তাহলে ফলের কথায় আসা যাক৷”—জ্ঞানভাণ্ডার বাড়ছে দেখে শোভনের জিজ্ঞাসাও উছলে উঠছিল।
“রোদের তা পেয়ে গুটি-আম ধীরে ধীরে পরিণত হতে শুরু করে৷ পাকার ঠিক প্রাক্-মুহূর্তের যে-আম, রং সবে ধরব ধরব করছে—তাকে বলে ‘ডম্ভক আম’। নাম শুনেই বুঝতে পারছিস বেশ ভরন্ত, রসবন্ত একটা ভাব রয়েছে! আর এর ঠিক পরে এক্কেবারে সুপক্ব অবস্থায় এলে তাকে বলা হয় ‘সুবুক পাক্বা’৷ এই স্তরে আম রসে টইটম্বুর, বোঁটার সঙ্গে আলগা ভাবে লেগে রয়েছে মাত্র… বুঝি সামান্য টোকা দিলেই পড়ে যাবে।
তো এই আম পাড়ারও বিশেষ কায়দা-কানুন রয়েছে। সকলে পারে না। দক্ষ মজুর যারা, তাদের বলা হয় ‘আমতাড়ুয়া পাইট’। পাইটদের মূল সরঞ্জাম দুটি—১. ঠুসি ২.খোঙি। একটা মজবুত লম্বা বাঁশের একমুখ জাল দিয়ে বেঁধে তৈরি হয় ঠুসি। আর বাঁশ-বেত দিয়ে বানানো গোলাকার ঝুড়িকে বলা হয় খোঙি। আমতাড়ুয়া পাইটেরা গাছে চড়ে খোঙিকে দড়ি দিয়ে বেঁধে কপিকলের মতো গাছ থেকে আম পেড়ে নিচে নামায়। অনেকে কচি আম তাড়াহুড়োয় পেড়ে কার্বাইড দিয়ে পাকিয়ে ফেলে৷ এতে আমের গুণমান নষ্ট হয়৷ সবসময় ডম্ভক আম পাড়া উচিত। তারপর ঘরে এনে মেঝেতে নিম, লিচু কিংবা আমপাতার বিছানায় সার বেঁধে সাজিয়ে দিতে হয়৷ একে বলে ‘পাল দেওয়া’। এই পাল দেওয়া আম খেতে সুস্বাদু। সাধারণের ধারণা, গাছপাকা আম খেতে সবচেয়ে ভালো৷ কিন্তু এটা ঠিক নয়৷ পাল দেওয়া ডম্ভক আম-ই শ্রেষ্ঠ। উপরন্তু গাছপাকা আমে পুষ্টিগুণ, খাদ্যগুণ এবং অম্লভাব অনেকটা বেশি থাকে বলে একটার বেশি খাওয়াও মুশকিল।”
আমচাষের খুঁটিনাটি জানার পর রসনা ‘মধুময় আমরসে’ ভরে উঠছিল। ফলে টেকনিক্যাল কথা ছেড়ে হ্যাংলার মতো সরাসরি ফলের সাম্রাজ্যে ঢুকে পড়ল শোভন—“আচ্ছা, এই আমের প্রকারভেদ কীরকম?”
“মূলত দু-প্রকার। একদিকে ব্র্যান্ডেড আম। অন্যদিকে দেশি আম। ব্র্যান্ডেড আমের মধ্যে রয়েছে বোম্বাই, হিমসাগর, ফজলি। অন্যদিকে দেশি আম বলতে অমৃতভোগ, বিষ্ণুভোগ, গোপালভোগ, কর্পূরদাগি, ভগবানকেলুয়া, রাখালভোগ, ল্যাংড়া এরকম অজস্র ভ্যারাইটি। দেশি আম খেতে বেশি সুস্বাদু৷ কিন্তু বাজারে তেমন দাম মেলে না। ফলে অনেকে বাড়িতে রেখে নিজেরা খেয়ে ফেলে। রংদার ব্র্যান্ডেড আম বিকোয় বেশি, বিদেশেও পাড়ি দেয়। আবার ব্র্যান্ডেড আমেরও দেশীয় নামকরণ রয়েছে। গোপালভোগের কথা ধর৷ বাইরে ‘বোম্বাই’ নামে কাটে। দেশি ক্ষীরসাপাতির বাজারি সংস্করণ হিমসাগর।”
গুরুগম্ভীর আলোচনার মধ্যে লঘু কথা বলা শোভনের মজ্জাগত৷ ফলে একগাল হেসে বলে ফেলল—“কদিন আগে ফেসবুকে দেখি একজন লিখেছে, কিছু কিছু আম খেয়ে মন এতটাই ভরে ওঠে যে ইচ্ছে করে গাছটাকে গিয়ে ধন্যবাদ জানিয়ে আসি।”
যদিও তার এই চুটকিকে কেয়ার না করে ফুঁৎকারে উড়িয়ে বলে চললেন পিতৃদেব—“খেয়াল করে দেখ, দেশি আমের নামকরণে দেবতার নামের কী সুন্দর প্রভাব। বিষ্ণুভোগ, রাখালভোগ, গোপালভোগ… অর্ঘ্যজ্ঞাপনের মরমি ছোঁয়া। আম ছাড়া আর কোনো ফলের মধ্যে ভক্তি-নিবেদনের এই ব্যাপারটা নেই, তাই না?”
এতক্ষণে টনক নড়ল শোভনের৷ স্কুলে যাওয়ার বেলা হয়েছে। এদিকে ‘অস’ আর ‘রসে'-র যে কোনো হিল্লেই হল না! লুত্তি পোকায় ক্লাসনোটের বারোটা বাজাল দেখছি! দোনোমোনো করতে করতে প্রসঙ্গটা খোঁচা দিতেই শোভনের বাবা ফের তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন আর চেয়ার ছেড়ে বাজখাঁই গলায় চেঁচিয়ে জানালেন—''তা বইতে ‘আম’-কে ‘রাম’ বলেছে তো আমি কী করব? যা গিয়ে সুনীতি চাটুজ্যের বই ঘাঁট। নয়তো পবিত্র সরকারকে চিঠি লেখ!... কই গো, সকাল যে গড়িয়ে গেল… কয়েক ফালি গোপালভোগ কেটে দাও দেখি, মুড়ি দিয়ে মেখে খাই।”