দ্য ওয়াল ব্যুরো : আগেই অর্থনীতিবিদরা বলেছিলেন, করোনা মহামারীর ফলে বিরাট ধাক্কা আসবে অর্থনীতিতে। মঙ্গলবার তার আভাস মিলল। সেন্টার ফর মনিটরিং ইকনমি (সিএমই) নামে মুম্বইয়ের এক সংস্থা জানিয়েছে, দেশে কর্মরতদের সংখ্যা কমেছে। সেই সঙ্গে কমেছে নতুন নিয়োগের সংখ্যা।
ওই সংস্থাটি লেবার পার্টিসিপেশন রেট নামে একটি সূচক ব্যবহার করেছে। তার মাধ্যমে বোঝা যায়, দেশে যত কর্মক্ষম মানুষ আছেন তাঁদের কতজন বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত। সিএমই জানিয়েছে, এই প্রথমবার এলপিআর সূচক নেমেছে ৪২ পয়েন্টের নীচে। মার্চে ওই সূচক ছিল ৪১.৯ এর ঘরে। কর্মসং স্থানের হারও ছিল ৩৮.২ শতাংশ।
দেশ জোড়া লকডাউন যখন তৃতীয় সপ্তাহে পড়েছে, তখন জানা গেল, মার্চে এলপিআর নেমেছে হু হু করে। গত দু’বছর ধরে ওই সূচক চেষ্টা চালাচ্ছিল যাতে স্থিতিশীল থাকা যায়। তার পরে হু হু করে পড়েছে।
জানুয়ারিতে এলপিআর ছিল ৪২.৯৬ এর ঘরে। মার্চে তা নেমে ৪১.৯০ এর ঘরে দাঁড়িয়েছে। জানুয়ারিতে কর্মরতদের সংখ্যা ছিল ৪১ কোটি ১০ লক্ষ। মার্চে দাঁড়িয়েছে ৩৯ কোটি ৬০ লক্ষ। বেকারের সংখ্যা ৩ কোটি ২০ লক্ষ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩ কোটি ৮০ লক্ষ।
সিএমই-র শীর্ষ কর্তা মহেশ ব্যাস বলেন, “আমরা আশঙ্কা করেছিলাম, লকডাউনের ফলে কর্মসংস্থান কমবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, তার আগে থেকে কর্মসংকোচন শুরু হয়েছিল।”
লকডাউনের ফলে দেশে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ থমকে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী ত্রৈমাসিকে দেশের মোট জাতীয় উৎপাদন বা জিডিপি আগের চেয়ে কমবে। দুই দশকে এই প্রথম কমবে জিডিপি। সামগ্রিকভাবে চলতি বছরের অর্থনৈতিক বিকাশেই ছাপ ফেলবে এই লকডাউন। ডয়েশ ব্যাঙ্ক এজি-র অর্থনীতিবিদরা এমনই আশঙ্কা করছেন।
ভারতে যে তিন সপ্তাহ লকডাউন চলছে, তার দু’সপ্তাহই হচ্ছে এপ্রিলে। অর্থনীতিবিদ প্রকাশ সকপাল জানিয়েছেন, এপ্রিল থেকে জুন অবধি যে ত্রৈমাসিক, সেখানে জিডিপি কমবে পাঁচ শতাংশ। গত ডিসেম্বরে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে জিডিপির বিকাশ হয়েছিল ৪.৭ শতাংশ হারে।
সকপাল জানিয়েছেন, লকডাউনের ফলে বাজারে যথেষ্ট পরিমাণে কমবে বেসরকারি চাহিদা। অন্তত এক সপ্তাহ ধরে কেউ অত্যাবশ্যক পণ্যের বাইরে কিছু কিনবেন না। ফলে জিডিপি কমতে পারে এক শতাংশ। আগে ভাবা হয়েছিল, এপ্রিল থেকে যে নতুন আর্থিক বছর শুরু হচ্ছে, তাতে জিডিপি বিকশিত হবে ৪.৮ শতাংশ হারে। কিন্তু করোনাভাইরাসের অতিমহামারীর পরে মনে হচ্ছে বিকাশ হবে .০৫ থেকে এক শতাংশ কম।
ডয়েশ ব্যাঙ্কের চিফ ইকনমিস্ট কৌশিক দাসের আশঙ্কা, এপ্রিল থেকে জুন অবধি ত্রৈমাসিকে প্রকৃত জিডিপি-র বিকাশ হবে ঋণাত্মক। এমনকি জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ত্রৈমাসিকেও জিডিপির ঋণাত্মক বিকাশ হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
মুম্বইয়ে বার্কলে পিএলসি-র অর্থনীতিবিদ রাহুল বাজোরিয়া বলেন, লকডাউনের ফলে উৎপাদন কমবে দুই শতাংশ। ২০২০ সালে জিডিপি ৪.৫ শতাংশ হারে বিকশিত হবে ধরা হয়েছিল। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, বিকাশ হবে ২.৫ শতাংশ হারে।
ব্লুমবার্গের ধারণা, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ত্রৈমাসিকে জিডিপি-র বিকাশ হবে ২.৭ শতাংশ। সারা বছরে জিডিপি বিকশিত হবে ৪.৩ শতাংশ হারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মহামারীর ফলে ভারতের ক্ষতি হবে ১২ হাজার কোটি ডলার। তার মানে প্রায় ন’লক্ষ কোটি টাকা। টাকার ওই অঙ্ক আমাদের মোট জাতীয় উৎপাদন বা জিডিপির চার শতাংশের সমান। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করোনার ধাক্কা সামলাতে অবিলম্বে আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করা প্রয়োজন।