কমিশন আগেই জানিয়েছিল, যারা মৃত, পাওয়া যায়নি বা অনুপস্থিত, পার্মানেন্টলি শিফটেড অর্থাৎ যাঁরা স্থায়ীভাবে সরে গিয়েছে, আগেই এনরোল করা ছিল বা নাম ছিল এবং অন্যান্যদের মিলিয়ে এই আন-কালেক্টেবল।
.jpeg.jpg.webp)
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল।
শেষ আপডেট: 3 December 2025 12:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় এসআইআর (SIR West Bengal) পর্বে মৃত ভোটারের (Dead Voter) সংখ্যা বেড়ে হল ২২ লক্ষ ৮২ হাজার ৭৮৯। এখনও অবধি প্রায় ৯০ শতাংশ এনুমারেশন ফর্মের ডিজিটাইজেশনের (Enumeration Form) কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। আর সেই হিসেবে কমিশনের (Election Commission) দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী বুধবার সকালে আন-কালেক্টেবল ফর্মের সংখ্যা পেরিয়ে গেল ৫০ লক্ষ!
কমিশনের হিসেব বলছে, আজ সকাল আটটা পর্যন্ত এই সংখ্যাটি ছিল ৪৯ লক্ষ ৪৩৭। বেলা ১১.৩০ পর্যন্ত যা ৫০ লাখ পেরিয়েছে বলে খবর।
মৃত ভোটারের সংখ্যা: ২২ লক্ষ ৮২ হাজার ৭৮৯।
অনুপস্থিত বা খুঁজে পাওয়া যায়নি এমন ভোটারের সংখ্যা: ৭ লক্ষ ৬১ হাজার ৫৩১।
পাকাপাকি ভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া ভোটারের সংখ্যা: ১৭ লক্ষ ১৯ হাজার ৩৬৩।
অলরেডি এনরোলড বা ডুপ্লিকেট ভোটারের সংখ্যা: ১ লক্ষ ১২ হাজার ৭৫।
অন্যান্য: ২৪ হাজার ৬৭৯।
মোট আনকাল্টেক্টবল ফর্ম: ৪৯ লক্ষ ৪৩৭।
এখন ভোটারদের মনে প্রশ্ন উঠতে পারে, এই আন-কালেক্টেবল (Uncollectable Form) বলতে ঠিক কাদের কথা বলা হচ্ছে। কমিশন (election Commission) আগেই জানিয়েছিল, যারা মৃত, পাওয়া যায়নি বা অনুপস্থিত, পার্মানেন্টলি শিফটেড অর্থাৎ যাঁরা স্থায়ীভাবে সরে গিয়েছে, আগেই এনরোল করা ছিল বা নাম ছিল এবং অন্যান্যদের মিলিয়ে এই আন-কালেক্টেবল।
কোচবিহার: ১ লক্ষ ৬ হাজার ২০৩
জলপাইগুড়ি: ৯৮ হাজার ৪১৯
দার্জিলিং: ১ লক্ষ ১০ হাজার ৩৮৯
উত্তর দিনাজপুর: ১ লক্ষ ৫৪ হাজার ৬৬২
দক্ষিণ দিনাজপুর: ৭৩ হাজার ২৯৯
মালদহ: ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৭০০
মুর্শিদাবাদ: ২ লক্ষ ৫২ হাজার ৫০২
নদিয়া: ১ লক্ষ ৯০ হাজার ৮৫৮
উত্তর ২৪ পরগনা: ৬ লক্ষ ৮৯ হাজার ৮৪৩
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ৫ লক্ষ ৪২ হাজার ৬৮৭
কলকাতা দক্ষিণ: ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ৯৫৭
কলকাতা উত্তর: ৩ লক্ষ ১৫ হাজার ৭৪৫
হাওড়া: ৩ লক্ষ ৭২ হাজার ৮০৪
হুগলি: ২ লক্ষ ৪৭ হাজার ৭৩৬
পূর্ব মেদিনীপুর: ১ লক্ষ ৩০ হাজার ৪১৮
পশ্চিম মেদিনীপুর: ১ লক্ষ ৮৪ হাজার ৫০৮
পুরুলিয়া: ১ লক্ষ ৬১ হাজার ৯১৫
বাঁকুড়া: ১ লক্ষ ২০ হাজার ৮১৫
পূর্ব বর্ধমান: ১ লক্ষ ৯৬ হাজার ১১৯
বীরভূম: ১ লক্ষ ৫৮ হাজার ২৭৩
আলিপুরদুয়ার: ৯৬ হাজার ৪৭০
কালিম্পং: ১৫ হাজার ৭৮৫
ঝাড়গ্রাম: ৫২ হাজার ৮
পশ্চিম বর্ধমান: ২ লক্ষ ৬৯ হাজাপ ৩২২
অন্যদিকে, গতকালই ফের একবার রাজ্যের ছয় জেলার ডিইও-কে চিঠি দিয়েছে কমিশন। যার মধ্যে রয়েছে দুই ২৪ পরগনা, দুই কলকাতা, হাওড়া এবং হুগলি। চিঠিতে বলা হয়েছে, যেসব আবাসনে ৮০০ বা তার বেশি ভোটার রয়েছেন এমন আবাসনের খোঁজ করতে হবে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু রাজনৈতিক দল তাদের মতামত জানিয়েছে। সেই মতগুলোকেই সামনে রেখে পুনরায় খোঁজ খবর করতে বলেছে কমিশন। ৬ ডিসেম্বরের মধ্যে এ ব্যাপারে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের বক্তব্য, যেহেতু এখনও একাধিক জেলায় এখনও আনকালেক্টেবল ফর্মের সংখ্যাটা আপলোড করা হচ্ছে না, তাই স্বাভাবিকভাবেই আসল সংখ্যাটা পাওয়া যাচ্ছে না। যে কারণে বেশ কয়েকজন বিএলও-র কাজের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন দিল্লির নিয়োগ করা স্পেশ্যাল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত (Subrata Gupta)।
কমিশন খবর পেয়েছে, অনেক জায়গায় তিনবার করে ভিজিট করার পরেও চূড়ান্ত তালিকা আপলোড করতে দেরি করছেন বেশ কিছু বিএলও। এমনও খবর পাওয়া গিয়েছে যে স্থানীয় প্রশাসনের কর্তারাই নাকি বিএলও-দের বলছেন এখন কিছু আপলোড করার দরকার নেই, একেবারে শেষ মুহূর্তে যখন বলা হবে তখন করলেও হবে। যা নিয়ে অত্যন্ত বিরক্ত প্রকাশ করেন স্পেশ্যাল অবজার্ভার। ঘুরিয়ে জানতেও চেয়েছিলেন, ঠিক কার নির্দেশের অপেক্ষা করছেন বিএলও-রা। কমিশনের বক্তব্য, এই আপলোডের প্রসেস যত তাড়াতাড়ি মিটবে, তত স্পষ্ট হবে বাংলার মৃত ভোটারের আসল সংখ্যাটা।