দ্য ওয়াল ব্যুরো: আলিঙ্গন নয়, হাত মেলানো নয়, সটান টেবিলের উপর পা তুলে দিয়ে এ এমন সৌজন্য দেখালেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন? ব্রেক্সিট নিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরেঁর সঙ্গে আলোচনার টেবিলে, বরিস জনসনের এ হেন আচরণে সমালোচনার ঝড় উঠেছে নানা মহলে।
প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসার পর এই প্রথমবার বিদেশ সফরে প্রতিবেশী দেশ ফ্রান্সে গেলেন বরিস জনসন। প্যারিসের অভিজাত এলিসি প্যালেসে বসেছিল বৈঠক। আলোচনার টেবিলের উল্টো দিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরঁ। ফটোগ্রাফারদের ক্যামেরা ক্লিক করার আগে দেখা যায়, আচমকাই দু’জনের মাঝে রাখা ছোট টেবিলে পা তুলে দিয়েছেন বরিস। তাঁর মুখেও কৌতুকের হাসি।
এই ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই নানা রকম মন্তব্য ভেসে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। দু’দেশের মানুষই দাবি করেছেন, এ ভাবে পা তুলে পরোক্ষে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরঁকে তাচ্ছিল্য করতে চেয়েছেন বরিস। এমন খামখেয়ালি আচরণ তাঁর স্বভাবজাত। আবার, অনেকের দাবি, আলোচনার টেবিলে দু’জনেই হাল্কা মেজাজে ছিলেন। কৌতুক করতেই দেখা গেছে বরিস জনসনকে। তাই নিছক মজা করতেই এমনটা করেছেন তিনি।
https://youtu.be/N0Von9VXq_M
বিতর্ক বরাবরই তাঁর সঙ্গী। চেহারা. চুলের কায়দায় অনেকেই তাঁর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাদৃশ্য খুঁজে পান। ‘শোম্যান’ বরিসের ‘বিস্ফোরক’ মন্তব্যের কারণে অনেকবারই সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। সাংবাদিকের চাকরি করার সময়, একটি খবর লিখতে গিয়ে বানিয়ে উদ্ধৃতি দেওয়ার অপরাধে বহিষ্কার করা হয়েছিল তাঁকে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ সম্পর্কেও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন বহুবার।
কূটনৈতিক মহলের মতে, সামনের কয়েকমাস বরিসের কাছে কঠিন পরীক্ষা। ব্রেক্সিট-বৈতরণী পার করাই তাঁর লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই বরিস জানিয়ে দিয়েছিলেন, যে কোনও মূল্যেই হোক ৩১ অক্টোবর ব্রেক্সিট হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যদি আলোচনার টেবিলে বসতে না চায়, তাহলে চু্ক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট হবে। আর চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট হলে, সঙ্কটে পড়বে দেশের অর্থনীতি, ব্রিটেনের মানুষও। বাণিজ্যিক কারণে সমস্যা তৈরি হবে প্রতিবেশী দেশ ফ্রান্সের সঙ্গেও। এই সমস্যার আগাম সমাধান সূত্র খুঁজতেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বরিসের এই বৈঠক বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। এলিসি প্যালেসের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, দুই নেতার আলোচনা গঠনমূলক হয়েছে।