সোমবার নাগরাকাটায় বন্যা পরিদর্শনে যান বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। এদিন বামনডাঙায় পৌঁছতেই বিজেপির প্রতিনিধি দলের ওপর হামলা চালায় কিছু দুষ্কৃতী।

উদয়ন গুহ
শেষ আপডেট: 6 October 2025 13:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি (North Bengal Flood) খতিয়ে দেখতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন বিজেপি সাংসদ (BJP MP Khagen Murmu) খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ (MLA Shankar Ghosh)। হামলার ভিডিওতে দেখা গিয়েছে সাংসদের মুখ ফেতে রক্তারক্তি দশা। বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। তবে অভিযোগ উড়িয়ে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ (Udayan Guha) বললেন, "এর সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই। কারও হাতে কি তৃণমূলের পতাকা ছিল? আসলে সাংসদ-বিধায়ক হিসেবে ওঁরা ব্যর্থ, উস্কানি দিতে গিয়েই মানুষ তাঁদের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছে।"
সোমবার নাগরাকাটায় বন্যা পরিদর্শনে যান বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। এদিন বামনডাঙায় পৌঁছতেই বিজেপির প্রতিনিধি দলের ওপর হামলা চালায় কিছু দুষ্কৃতী। একের পর এক গাড়িতে ভাঙচুর চালান ও ইট-পাথর ছোঁড়েন বলে অভিযোগ। এমনকি জুতোও ছোঁড়া হয় বলে দাবি বিজেপির।
সেই হামলার ঘটনায় গুরুতর জখম হন সাংসদ খগেন মুর্মু। তাঁর মাথা ফেটে ঝরঝর করে রক্তপাত শুরু হয়। পরে তাঁকে তড়িঘড়ি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। একাধিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। বিজেপির দাবি, এই হামলার নেপথ্যে তৃণমূলই রয়েছে। শাসকদল দায় স্বীকার না করলেও সবটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
প্রসঙ্গত, সোমবার সকালে নাগরাকাটায় প্রথমে পরিস্থিতি পরিদর্শনে যান বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। কিছুক্ষণ পরই পৌঁছয় অন্য একটি প্রতিনিধি দল, যার নেতৃত্বে ছিলেন খগেন মুর্মু ও শঙ্কর ঘোষ। সেই সময়েই হামলার ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হয়েছে এলাকায়। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় চাপে রয়েছে প্রশাসনও।
ইতিমধ্যে আক্রান্ত সাংসদ-বিধায়ককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সাংসদের শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক। খবর পেয়ে শিলিগুড়ি এয়ারর্পোট থেকে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। অন্যদিকে এ ব্যাপারে দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। দিলীপ বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী কার্নিভাল নিয়ে ব্যস্ত, উত্তরের মানুষ ভাসছে। আর সাহায্য করতে গিয়েও আক্রান্ত হলেন আমাদের সাংসদ-বিধায়ক। রাজ্যে যে আইনের শাসন নেই. তা আবারও স্পষ্ট হল।"
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে দিল্লি থেকে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রাজ্যের নেতাদের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে।