মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, "খুন হয়ে যাওয়ার পর রিপোর্ট তৈরি হয়। কিন্তু খুনের আগেই কেন পুলিশ সতর্ক হতে পারল না? গোয়েন্দারা কী করছিলেন?"

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 28 July 2025 13:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাত দিনের ব্যবধানে বীরভূমে খুন হলেন তৃণমূলের দুই নেতা (Two TMC leaders, Birbhum)। এ ব্যাপারে পুলিশি ব্যর্থতা নিয়ে এবার সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। বোলপুরে প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্য গোয়েন্দা দফতর (আইবি) ও জেলা পুলিশের ভূমিকাকে কাঠগড়ায় তুললেন তিনি।
সোমবার বোলপুরের গীতাঞ্জলি স্টেডিয়ামে আয়োজিত প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমি ব্যথিত। সাত দিনের মধ্যে বীরভূমে দু’জন খুন হয়েছে। আইবি কেন আগাম খবর পেল না? থানার পুলিশের কি কোনও দায়িত্ব ছিল না?"
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, "খুন হয়ে যাওয়ার পর রিপোর্ট তৈরি হয়। কিন্তু খুনের আগেই কেন পুলিশ সতর্ক হতে পারল না? গোয়েন্দারা কী করছিলেন?"
প্রশাসনের একাংশের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কিছু ডিএম, এসপি নিজে থেকেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, রাজ্যকে না জানিয়ে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "এটা কোনও দিন হত না। এখন কেন হবে? এই জিনিস বন্ধ করতে হবে।"
সাবধান করে দেন প্রশাসনিক আধিকারিকদেরও। বলেন, "ডিএম, এসপিরা বাইরে এমন কিছু বলবেন না, যাতে জনতা ব্যঙ্গ করার সুযোগ পায়। রাজনৈতিক নেতাদেরও এটা মাথায় রাখা উচিত।"
প্রসঙ্গত, গত শনিবার সন্ধেয় বীরভূমের ময়ূরেশ্বর ১ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ বাইতুল্লা শেখকে বোমা মেরে খুন করা হয় বিসিয়া গ্রামে। হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে বাইতুল্লার উপর হামলা চালায় বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। এর আগে সাঁইথিয়ার কোমরপুরে খুন হন আরও এক তৃণমূল নেতা।
গোয়েন্দা বিভাগের পাশাপাশি থানারও গাফিলতির অভিযোগ সামনে এনেছেন তিনি। প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর তির্যক মন্তব্যে স্পষ্ট, বীরভূমে একের পর এক রাজনৈতিক খুন নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন এবং ক্ষুব্ধ।
একই সঙ্গে বিজেপির একাংশ নেতার সঙ্গে জেলার একাংশ তৃণমূল নেতা সমঝে চলার রাজনীতি করছেন বলেও জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "বীরভূমের বহু নেতার নামে অভিযোগ এসেছে, রাষ্ট্রপতির ভবন থেকেও চিঠি এসেছে, কেন্দ্রের ক্ষমতায় আছে বলে তাঁদের ভয় করে চলছেন, ৫০-৫০ সমঝতা করে চলবেন, আমি থাকতে এ জিনিস হতে দেব না।"
মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য সরাসরি কারও নামোল্লেখ করেননি। তবে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।