একটি বিশ্ববিদ্যালয়। তার একটি ছাত্র সংসদ। তার আবার দু'জন সভাপতি। সাধারণ সম্পাদকও দুজন।এমনই আজব ঘটনার সাক্ষী বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়।

শেষ আপডেট: 1 July 2025 13:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: একটি বিশ্ববিদ্যালয়। তার একটি ছাত্র সংসদ। তার আবার দু'জন সভাপতি। সাধারণ সম্পাদকও দুজন।এমনই আজব ঘটনার সাক্ষী বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়। আরও আশ্চর্যের, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের দীর্ঘদিন নির্বাচনই হয়নি। তাই কোনও নির্বাচিত ছাত্র সংসদও থাকার কথাই নয়। যা থাকার কথাই নয়, তা রয়েছে জোড়ায় জোড়ায়। এমন অদ্ভুত ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই চোখ কপালে উঠেছে সংশ্লিষ্ট মানুষজনের।
এই ভুতুড়ে কমিটি দুটি শুধু আছে তাই নয়, এরা দুখানি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আগামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ' মুক্তধারা ২০২৫'। তারই বিজ্ঞপ্তি। এতে চোখ কপালে উঠেছে ছাত্র ছাত্রীদের। অনেকেই এটাকে শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের প্রকাশ বলছেন। তথাকথিত ছাত্র সংসদের তালিকাটা একবার দেখা যাক।
একটির সভাপতি শুভজিৎ পুরকাইত ও সাধারণ সম্পাদক সাত্ত্বিক সাহা। অন্যটির সভাপতি মণিকাঞ্চন মণ্ডল, সাধারণ সম্পাদক অভিষেক নন্দী। তাদের আবার প্যাড কিন্তু একই।
এই নিয়ে সরব ছাত্র ছাত্রীদের একাংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র সোনু পাশওয়ান বলেন, "আমরা জানি দীর্ঘদিন ভোটই হয়নি। তার আবার জিএস থাকবে কোথা থেকে? সংসদ অফিস বন্ধই থাকে। এই দুটো প্যাড কীভাবে চলছে জানি না। যাদের নামে এই প্যাড চলছে, তাদের একজন সোসিওলজির প্রথম বর্ষের ছাত্র সাত্ত্বিক সাহা। একটি কমিটির তিনিই জিএস বা সাধারণ সম্পাদক।
সাত্ত্বিক অবশ্য দাবি করেন, "অবশ্যই এটা ষড়যন্ত্র। গণতান্ত্রিক পথে না পেরে তৃণমূল ছাত্র পরিষদকে বদনাম করছে এসএফআই। আমি আইনী পদক্ষেপের কথা ভাবছি।" তিনি জানান, আগে রাজ কলেজের ছাত্র ইউনিটের সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে কোনও পদে নেই। অন্য গোষ্ঠীর ছাত্র নেতা খোন্দকার আমিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছু বলতে অস্বীকার করেন।
এই ঘটনায় সুর চড়িয়েছে এসএফআই। সংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয় লোকাল কমিটির সদস্য সোমনাথ মণ্ডল বলেন, "এটা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের গোষ্ঠী কোন্দলের প্রকাশ। কিন্তু তার জন্য ছাত্রছাত্রীরা বিভ্রান্ত হবে কেন? কর্তৃপক্ষ ছাত্র সংসদের রুমে তালা মারুন।"তাঁর দাবি, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা হোক। কিন্তু অবৈধ ছাত্র সংসদের মাধ্যমে তা করা যাবে না। ভবিষ্যতে প্রয়োজনে জোরদার আন্দোলন হবে।