
শেষ আপডেট: 12 April 2024 15:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর: ভূপতিনগর থেকে দিঘা যেতে সময় লাগে মেরেকেটে ঘণ্টাদুয়েক। ভূপতিনগরে বিস্ফোরণ কাণ্ডে এনআইএর গ্রেফতারি নিয়ে হইচইয়ের রেশ মিটতে না মিটতে এবার শিরোনামে দিঘা। সেখান থেকে ধরা পড়ল বেঙ্গালুরুর ক্যাফে বিস্ফোরণ কাণ্ডের দুই মাথা। ধৃতদের নাম আব্দুল মাথিন তহ্বা ও মুসাভির হুসেন সাজিব। শুক্রবার ভোরে রাজ্য পুলিশের সহযোগিতায় এনআইএর একটি দল হানা দেয় নিউ দিঘায়। সেখান থেকে গ্রেফতার করা হয় তাদের।
মার্চ মাসের ১ তারিখ বেঙ্গালুরুর রামেশ্বরম ক্যাফে আইইডি বিস্ফোরণে আহত হয়েছিলেন কমপক্ষে ১০ জন। সিসিটিভি ফুটেজে এক যুবককে একটি কালো রঙের ব্যাগ নিয়ে ওই ক্যাফেতে ঢুকতে দেখা গিয়েছিল। ইডলি অর্ডার করে খাবার পর টেবিলের নীচে ব্যাগটি রেখে চলে যায় সে। মিনিট দশেক পরেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয় ওই ক্যাফেতে। ঝলসে যান অনেকে। তদন্তে নেমে হামলায় মূল অভিযুক্ত ছিল আব্দুল মাথিন ত্বহা ও মুসাভির হুসেন সাজিবকে চিহ্নিত করে পুলিশ। ৩ মার্চ ঘটনার তদন্তভার হাতে নেয় এনআইএ। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছিল।
নিউ দিঘা থেকে যে দুজনকে আটক করা হয়েছে তারা এই কাণ্ডের সঙ্গে সরকারি যুক্ত বলেই এনআইএর অনুমান। প্রথমে অসম এবং পরে পশ্চিমবঙ্গে তারা লুকিয়ে ছিল বলে খবর। মার্চ মাসেই ক্যাফে বিস্ফোরণের অন্যতম মূল অভিযুক্ত মুজাম্মিল শরিফকে গ্রেফতার করেছিল এনআইএ। ১৮টি জায়গায় চিরুনি তল্লাশির পর তাকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয় এনআইএ। সেই সময়ই চিহ্নিত করা হয়েছিল আব্দুল মাতিন তহ্বা এবং মুশাভির হুসেন সাজিবকে। কিন্তু তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে পূর্ব মেদিনীপুরে তাঁদের অবস্থান জানতে পারে এনআইএ। এরপর রাজ্য পুলিশের সহযোগিতায় গ্রেফতার করা হল তাদের।
এরপরেই কুণাল ঘোষ ট্যুইট করে দাবি করেন, এনআইএ- কেও মানতে হল রাজ্য পুলিশের সক্রিয় সহযোগিতার কথা।বেঙ্গালুরু বিস্ফোরণে জড়িতদের গ্রেফতারে রাজ্য পুলিশের সহযোগিতার উল্লেখ করেছে এনআইএ। তারপরেই তিনি নিশানা করেছেন অধিকারী পরিবারকে। তিনি লিখেছেন, "কাঁথি থেকে পাকড়াও করা হয়েছে দুই জঙ্গিকে। সবাই জানে সেখানে কোন পরিবার দুষ্কৃতীদের আনে, আশ্রয় দেয়। এসবে তাদের ভূমিকার তদন্ত হোক। বাংলার পুলিশ দেশবিরোধী অশুভ শক্তিকে দমন করতে অবিচল এবং অন্য এজেন্সিকে সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত, আবার প্রমাণিত।"
গত শনিবার ভোরে ভূপতিনগর বিস্ফোরণে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেফতার করতে এসেছিল এনআইএ। অভিযোগ অভিযুক্তদের নিয়ে ফেরার সময় গ্রামবাসীদের বাধার মুখে পড়তে হয় এনআইএকে। তাদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। মাথা ফাটে এক এনআইএ আধিকারিকের। এই ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়ে। তবে বেঙ্গালুরু বিস্ফোরণ কাণ্ডে অভিযুক্তদের পাকড়াও করার সময় রাজ্য পুলিশ যে তাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে তা স্বীকার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।