
শেষ আপডেট: 17 February 2024 18:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: এক সঙ্গে মদ্যপান করে স্ত্রীর প্রেমিককে গলা টিপে খুন করার অভিযোগে হাওড়া থেকে এক লরিচালককে গ্রেফতার করল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত ব্যবসায়ীর নাম মহম্মদ নবী আলম আনসারি (৩৯) ওরফে ছোটু। ধৃত সিকান্দর আলিকে শনিবার চুঁচুড়া আদালতে পাঠায় দাদপুর থানার পুলিশ। হেফাজতে চেয়ে আবেদনও জানানো হয়।
পুলিশসূত্রে জানা গেছে, সিকান্দরের প্রথম পক্ষের স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক ছিল দাদপুরের মহেশ্বরপুরের টায়ার ব্যবসায়ী মহম্মদ নবী আলম আনসারির। তার দোকানে টায়ারের কাজ করতে গিয়ে বন্ধুত্ব হয়েছিল দুজনের। শেখ সিকান্দর আলিকে গ্রেফতার করে খুনের কিনারা করল হুগলি গ্রামীণ পুলিশ। মহম্মদ নবী আলম আনসারির আদি বাড়ি বিহারের মজফরপুরে। তবে থাকতেন হুগলির দাদপুর থানার মহেশ্বরপুর এলাকায়। এখানে দীর্ঘ দিন ধরে টায়ারের ব্যবসা করতেন। অভিযুক্ত শেখ সিকান্দার আলীর বাড়ি দাদপুরের পুইনান এলাকায়।
হুগলি গ্রামীণ পুলিশের ডিএসপি প্রিয়ব্রত বক্সী বলেন, "গত ১১ই ফেব্রুয়ারি দাদপুর থানার পুলিশ জানতে পারে টায়ার ব্যবসায়ী ছোটু মহেশ্বরপুরে তাঁর নিজের দোকানে মৃত অবস্থায় পরে আছেন। দেহ উদ্ধারে গিয়ে তাঁর গলায় ক্ষতচিহ্ন দেখতে পান পুলিশ কর্মীরা। দোকান থেকে ছোটুর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। দোকানের ম্যানেজার দাদপুর থানায় একটি খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।"
ঘটনার পর ওই ব্যবসায়ীর মারুতি গাড়ি ও মোবাইল ফোনটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে মৃতদেহ উদ্ধারের সময় দেহের পাশে পরে থাকা একটি চিরকুট পায় পুলিশ। তাতে তিনটি মোবাইল নম্বর লেখা ছিল। সেই মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তারপরেই এই ঘটনায় শেখ সিকান্দার আলির যোগ সামনে আসে। শুক্রবার রাতে হাওড়ার শালিমারে রেলওয়ে সাইডিং থেকে শেখ সিকান্দার আলিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে সিকান্দর আলির দুটি বিয়ে। প্রথম পক্ষের স্ত্রী তার সঙ্গে থাকতেন না। প্রথম পক্ষের স্ত্রীর সাথেই সম্পর্ক ছিল ছোটুর। এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি শেখ সিকান্দার আলি। এ নিয়ে ছোটুর সঙ্গে বিবাদও চলছিল। তার জেরেই টায়ার ব্যবসায়ীকে খুনের পরিকল্পনা করে শেখ সিকান্দার আলি।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ১০ ই ফেব্রুয়ারি রাতে দুজনে এক সঙ্গে মদ্যপান করেন। এরপরেই ছোটুকে গলা টিপে খুন করে তার গাড়ি নিয়ে চম্পট দেয় শেখ সিকান্দার আলি। হরিপালের অলিপুর থেকে গাড়িটি উদ্ধার করলেও ছোটুর মোবাইল ফোনটি এখনও উদ্ধার হয়নি।