দ্য ওয়াল ব্যুরো: নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রাণ কাড়ল এক যুবকের। আতঙ্কের রেশ ছড়াল দক্ষিণ-পূর্বে।
ত্রিপুরার বাসিন্দা ২৩ বছরের মনির হোসেনের মৃত্যু হয়েছে মালয়েশিয়ার একটি হাসপাতালে। কর্মসূত্রে মালয়েশিয়াতেই বসবাস ছিল হোসেনের। দিনকয়েক আগে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। সূত্রের খবর, সেই হাসপাতালের ডাক্তাররা জানিয়েছেন করোনাভাইরাসের জীবাণু মিলেছিল হোসেনের রক্তে। সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার রাতেই মৃত্যু হয় তাঁর।
হোসেনের পরিবার জানিযেছে, বুধবার সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ফোন করে হোসেনের মৃত্যুর খবর জানায়। ভাইরাসের সংক্রমণের কারণেই মৃত্যু বলে উল্লেখও করে তারা।
ত্রিপুরার বাসিন্দা হলেও কর্মসূত্রে মালয়েশিয়ায় থাকতেন হোসেন। ২০১৬ সালে তাঁর বিয়ে হয়। এর দু’বছর পরেই মালয়েশিয়ায় চলে যান হোসেন। সূত্রের খবর, সেখানে একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন তিনি।
আরও পড়ুন: করোনাভাইরাসের ছোবলে মৃত্যু বেড়ে ১৭০, আক্রান্ত সাত হাজারের বেশি, চিনে যেন শ্মশানের স্তব্ধতা
হোসেনের মৃত্যুতে শোকে পাথর পরিবার। কীভাবে মালয়েশিয়া থেকে দেহ ফিরিয়ে আনা যায় বুঝতেই পারছেন না হোসেনের দাদু। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সরকারি আধিকারিকদের দ্বারস্থ হচ্ছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের সাহায্য চেয়েছেন হোসেনের পরিবারের সদস্যেরা।
করানোভাইরাসের হানায় চিনেও মৃত্যু বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। সে দেশের জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব বলছে, বৃহস্পতিবার অবধি মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৭০। এখনও পর্যন্ত হুবেই প্রদেশেই ভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে শতাধিক। দেশে আক্রান্ত সাত হাজারের বেশি।
ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়েছে এ দেশেও। মহারাষ্ট্র সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই রাজ্যবাসীর কাছে আবেদন করা হয়েছে, ১ জানুয়ারির পর চিন থেকে দেশে ফিরেছেন এমন কেউ থেকে থাকলে তিনি যেন অবশ্যই সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করেন।
শুধু মহারাষ্ট্র নয়, বিহারের ছাপড়ার বাসিন্দা এক তরুণীও চিন থেকে ফেরার পরেই সর্দি-কাশি, জ্বরে আক্রান্ত হন। পটনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাঁকে। হাসপাতাল সুপার জানিয়েছেন, টেস্টের পরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সব উপসর্গই দেখা গেছে মেয়েটির মধ্যেই। হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজস্থানের জয়পুরেও এক ব্যক্তির মধ্যে দেখা গেছে ভাইরাসের সংক্রমণ। তিনিও দিন দুয়েক আগে চিন থেকে ফিরেছেন। সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিনড্রোম দেখা গেছে তাঁর মধ্যেও। ওই ব্যক্তির রক্তের নমুনা পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে পাঠানো হয়েছে।