
শেষ আপডেট: 2 March 2023 13:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি সংসদীয় রাজনীতিতে ইতি টেনে দিয়েছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা গত মেয়াদের ত্রিপুরার (Tripura Assembly Election) বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার (Manik Sarkar) এবার ভোটে দাঁড়াননি। তাঁর কেন্দ্র ধনপুরও ধরে রাখতে পারল না সিপিএম। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক জিতলেন ধনপুরে।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি দ্য ওয়াল-এর বিশেষ প্রতিবেদনে লেখা হয়েছিল ‘জ্যোতি বসুর সাতগাছিয়া হয়ে উঠতে পারে মানিকের ধনপুর, মোদীর মন্ত্রী কি সোনালি হতে পারবেন’। বৃহস্পতিবার ফল ঘোষণার পর দেখা গেল মানিকের ধনপুর সত্যিই বসুর সাতগাছিয়া হয়ে উঠল।
এই কেন্দ্রে গতবারই মানিক সরকারকে কড়া লড়াইয়ের মুখে ফেলে দিয়েছিলেন প্রতিমা। এবার এই কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী করেছিল লোকাল কমিটির সম্পাদক কৌশিক চন্দকে। তাঁকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ভোটে পরাস্ত করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক।
কেন সাতগাছিয়ার তুলনা হচ্ছে ধনপুরের সঙ্গে?
১৯৭২ সালের ভোটে বরানগরে হেরে গিয়েছিলেন জ্যোতি বসু। ১৯৭৭ সালে জ্যোতিবাবুর কেন্দ্র বদল করে দিয়েছিল পার্টি। ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের বরানগর থেকে সরিয়ে তাঁকে দাঁড় করানো হয়েছিল সাতগাছিয়ায়। তারপর সাতগাছিয়া ২০০১ পর্যন্ত ছিল বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভা কেন্দ্র।
২০০০ সালের মাঝামাঝি সময়ে জ্যোতি বসু ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, সংসদীয় রাজনীতিতে তিনি ইতি টানছেন। ২০০১-এর বিধানসভা ভোটে তিনি আর দাঁড়াচ্ছেন না। যাতে ধোঁয়াশা না থাকে তার জন্য বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে ছেড়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার।
ঘটনা হল, জ্যোতিবাবু সরে যাওয়ার পর সিপিএমের পাশ থেকে সরে গিয়েছিল সাতগাছিয়া। ২০০১ সালের ভোটে জ্যোতিবাবুর সাতগাছিয়ায় বিধায়ক হন তৃণমূলের সোনালি গুহ।
১৯৯৮ সাল থেকে ধনপুরের বিধায়ক হলেন ত্রিপুরা সিপিএমের মুখ মানিক সরকার। কেউ তাঁকে হারাতে পারেননি। ২০১৮ পর্যন্ত ধনপুর ছিল ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র। ২০১৮ সালে বাম সরকারের পতন হলেও ধনপুরে জিতেছিলেন মানিকবাবু। কিন্তু এবার নির্বাচনী রাজনীতিতে দাঁড়ি টেনে দিয়েছেন সিপিএমের এই পলিটব্যুরোর সদস্য। ভোটে দাঁড়াননি। এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকারের মন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিককে। বিজেপি আশাবাদী, এবার ধনপুরে পদ্মফুল ফুটবে। ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে গত কয়েক দশকের দুর্ভেদ্য লালদুর্গ।
২০১৮ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা ভোটে ধনপুরে বিজেপি প্রার্থী করেছিল এই প্রতিমা ভৌমিককেই। যেদিন গণনা হচ্ছে সেদিন গোড়ার দিকে শোনা গিয়েছিল, মানিকবাবু হারছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, সরকার ধরে না রাখতে পারলেও মানিক সরকার নিজের কেন্দ্রে জয় হাসিল করেছিলেন। শেষ পাঁচ বছর ধনপুরের বিধায়ক হিসেবেই ত্রিপুরার বিরোধী দলনেতা ছিলেন মানিক।
জ্যোতিবাবু সরে যাওয়ার পর যেমন সাতগাছিয়া আর সিপিএমের পাশে থাকেনি, তেমন মানিক সরকার সরে যাওয়ার পর ধনপুরও রইল না লালঝান্ডার পাশে।
বিপ্লবের বনমালীপুরে হারলেন বিজেপির রাজ্যসভাপতি, পরাস্ত ত্রিপুরার উপমুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণুও