রাজ্যসভার সদস্য সুখেন্দু শেখর তাঁর ফেসবুক পোস্ট নিয়ে বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথে নামার ডাক দলের সব স্তরে পৌঁছে দেওয়াই আমার উদ্দেশ্য।

শেষ আপডেট: 9 January 2026 10:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইপ্যাকের অফিসে ইডি হানার (I PAC ED Raid) প্রতিবাদে শুক্রবার দলকে পথে নামার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তৃণমূল নেত্রী এবং দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) প্রতিবাদ মিছিলে থাকার সম্ভাবনা আছে।
মমতার নির্দেশের প্রেক্ষিতে দলকে পথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ (Trinamool MP) সুখেন্দু শেখর রায়। সেই আহ্বান জানাতে গিয়ে প্রবীণ এমপি আশ্রয় করেছেন সলিল চৌধুরীর লেখা ও সুরে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া দুটি জনপ্রিয় গানের লাইন। প্রয়াত দুই শিল্পীই শিল্প-সংস্কৃতির বাম প্রভাবিত সংগঠন আইপিটিএ-র সদস্য ছিলেন। কালজয়ী গান দুটিও জন্মলগ্ন থেকে বামপন্থী দলগুলি তাঁদের সভা-সমাবেশে গেয়ে থাকে।
সুখেন্দু শেখর ফেসবুকে লিখেছেন, পথে এবার নামো সাথী.....। ৫০ এর দশকে প্রতিবাদের জনপ্রিয় সঙ্গীত হয়ে উঠেছিল গানটি। প্রধানত বামপন্থীদের সভা সমাবেশ মিছিলে শোনা যেত দলবদ্ধ সঙ্গীত-
'পথে এবার নামো সাথী পথেই হবে পথ চেনা
জনস্রোতে নানান মতে মনোরথের ঠিকানা,
হবে চেনা, হবে জানা।।
অনেক তো দিন গেল বৃথাই সংশয়ে,
এসো এবার দ্বিধার বাধা পার হয়ে
তোমার আমার সবার স্বপন
মিলাই প্রাণের মোহনায়
কীসের মানা।
সুখেন্দু শেখর উল্লেখ করেছেন বাম মনস্ক মানুষের পছন্দের আরও এক কালজয়ী গান 'কোনও এক গাঁয়ের বধূর...' বেশ কিছু লাইন। গানটির ভিতরের কয়েকটি লাইন-'এল পিশাচেরা এল রে, শতপাকে বাঁধিয়া নাচে তা তা তা ধিয়া
নাচেরে/
কুটিলের মন্ত্রে শোষণের যন্ত্রে গেল প্রাণ শত প্রাণ গেল রে…।
এরপর লিখছেন, 'এবার রুখে দাঁড়ান, রুখে দাঁড়ান…॥
তৃণমূলের মঞ্চে জনপ্রিয় বাম স্লোগান ও গণসঙ্গীত নতুন নয়। বাম ঘনিষ্ঠ বুদ্ধিজীবীরাও তৃণমূলকে সাদরে গ্রহণ করেছেন। কোনও এক গাঁয়ের বধূ... গানটি সলিল লিখেছিলেন ৪৬-এর মন্বন্তরে মানুষের দুর্দশার দিনগুলিকে স্মরণে রেখে।
রাজ্যসভার সদস্য সুখেন্দু শেখর তাঁর ফেসবুক পোস্ট নিয়ে বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথে নামার ডাক দলের সব স্তরে পৌঁছে দেওয়াই আমার উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেছেন, নির্বাচন কমিশন SIR-এর নামে বাংলায় যে পৈশাচিক পদ্ধতি গ্রহণ করেছে যার ফলে ৭০ জনের বেশী সাধারণ মানুষ মারা গেছেন । ২০১৬, ২০২১ ও ২০২৬- প্রতিটি বিধানসভা নির্বাচনের আগে সিবিআই-ইডি বাংলায় এসে দৌরাত্ম্য শুরু করে কেন? যদি ৫ বছরের পুরনো কোন কেসে তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থার বিরুদ্ধে ইডি তথ্য পেয়ে থাকে তাহলে ৫ বছর পরে কুম্ভকর্ণের ঘুম ভেঙে জেগে ওঠা কী নিতান্তই কাকতালীয় না রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত? গতকাল ছিল ৭ জানুয়ারি- নেতাই গণহত্যা দিবস। ১৬ বছর আগে সিপিএমের হার্মাদরা প্রকাশ্য দিবালোকে ৯ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা করেছিল। সেইসময় আমি হাইকোর্টের বার অ্যাসোশিয়েসনের সহ সভাপতি। আমরা বারের পক্ষে জনস্বার্থ মামলা করায় হাইকোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। বাম সরকার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে হেরে যায়। কিন্তু সিবিআই কালক্ষেপ করায় একজনও হার্মাদ ধরা পড়েনি। রাজ্য সিআইডির বিশেষ দল অন্ধ্রপ্রদেশে সিপিএমের পার্টি অফিস থেকে আত্মগোপনকারী হার্মাদদের ধরে নিয়ে আসে। সিবিআই আদালতে ১৬ বছর ধরে আজও সেই মামলা চলছে । সমস্ত হার্মাদ জামিন পেয়ে গেছে । তদন্তকারী অফিসার সহ কিছু সাক্ষী ইতিমধ্যে মারাও গেছেন। এই হচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্হার নিরপেক্ষ তদন্তের নমুনা। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের অঙ্গুলি হেলনে এই সংস্থাগুলির তথাকথিত নিরপেক্ষ তদন্তের অভিমুখ বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে পরিচালিত হয় ও হচ্ছে। বাংলার জনগণ ইতিমধ্যেই তা বুঝতে পেরেছেন ।