
শেষ আপডেট: 13 February 2024 18:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত কয়েকদিন ধরেই তপ্ত সন্দেশখালি। 'ফেরার' তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখ-সহ তাঁর গোষ্ঠীর অত্যাচারের প্রতিবাদে ক্ষোভের জ্বালামুখ খুলে দিয়েছেন গ্রামবাসীরা। এমন আবহে মঙ্গলবার বিকেলে কালীনগরে পৌঁছল রাজ্যের সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিকের নেতৃত্বে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল।
সেখানে দাঁড়িয়েই সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিকের ঘোষণা, এলাকায় শান্তির পরিবেশ ফেরাতে ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্দেশখালিতে তৃণমূলের জনসভা হবে।
সেচমন্ত্রীর দাবি, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে বাংলার মা, বোনেদের ওপর অত্যাচার হয় না। এটা উত্তরপ্রদেশ নয়, যে ধর্ষণ করে নির্যাতিতাকে পুড়িয়ে দেওয়া হবে। মা, বোনেরাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতীক। এটা বাংলা, এখানে মায়েদের সম্মান নষ্ট হয় না।’’
প্রসঙ্গত, সন্দেশখালি কাণ্ডে এদিনই রাজ্য পুলিশের ভূমিকার তীব্র নিন্দা করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। পুলিশের জারি করা ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি সন্দেশখালি ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণ করেছে আদালত।
বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায় জানিয়েছেন, সন্দেশখালির দুটি বিষয় নিয়ে আদালত খুবই বিচলিত। আদিবাসীদের জমি দখল করার অভিযোগ এবং এলাকার মহিলাদের মাথায় বন্দুকের নল ঠেকিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ। দুটি বিষয় খুবই উদ্বেগজনক বলে জানায় আদালত।
এদিনও গ্রামবাসীদের একাংশ ফেরার তৃণমূল নেতা শেখ শাজাহান ও শিবু হাজরার অত্যাচারের প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন। অন্যদিকে সন্দেশখালি কাণ্ডে শেখ শাজাহান ও শিবু হাজরার গ্রেফতার এবং সন্দেশখালির প্রাক্তন বিধায়ক নিরাপদ সর্দার ও বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার আহবায়ক বিকাশ সিংহের নিঃশর্তে মুক্তির দাবিতে মঙ্গলবার পৃথকভাবে এসপি অফিস ঘেরাও কর্মসূচি নিয়েছিল সিপিএম ও বিজেপি। ওই কর্মসূচিকে ঘিরে দিনভর তপ্ত হয়ে উঠেছিল এলাকা।
এমন আবহে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি তৃণমূলের তরফে সেচমন্ত্রী সভা করার ডাক দেওয়ায় বিষয়টিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এলাকার রাজনৈতিক জমি ধরে রাখতেই এই সভার ঘোষণা করা হল। যদিও শাসকদলের দাবি, এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই এই সভার ডাক দেওয়া হয়েছে।