মোদীকে 'পরিযায়ী' বলে কটাক্ষ করে 'বাংলার ১.৭ লক্ষ কোটি টাকার ন্যায্য পাওনা কেন্দ্র কেন এখনও আটকে রেখেছে?' সেই প্রশ্ন তুলেছিল তৃণমূল।

আলিপুরদুয়ারের সভায় প্রধানমন্ত্রী মোদী।
শেষ আপডেট: 29 May 2025 15:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় পা রাখার আগেই বুধবার রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের (TMC) দুর্নীতি (Corruption) নিয়ে সোশ্যাল মাধ্যমে সরব হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী (PM Narendra Modi)। জবাবে মোদীকে 'পরিযায়ী' বলে কটাক্ষ করে 'বাংলার ১.৭ লক্ষ কোটি টাকার ন্যায্য পাওনা কেন্দ্র কেন এখনও আটকে রেখেছে?' সেই প্রশ্ন তুলেছিল তৃণমূল।
বৃহস্পতিবার আলিপুর দুয়ারের সভা থেকে যার জবাব দিতে গিয়ে দুর্নীতির পাশাপাশি তৃণমূলের সরকারের বিরুদ্ধে উন্নয়ন বিরোধী তকমাও সাঁটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেন প্রধানমন্ত্রী। মোদী বলেন, "কোথাও হাইওয়ে, কোথাও মেট্রো, কোথাও রাস্তা অর্ধেক তৈরি হয়ে রয়েছে। বাংলায় ১৬টি বড় প্রকল্প আটকে রেখেছে এই তৃণমূলের সরকার। এদের জন্যই বাংলার উন্নয়ন হয় না। এরা বাংলার মানুষের জন্য বিরাট বড় ধোঁকা।"
মোদী এও বলেন, "কেন্দ্র সরকারের যে যে যোজনা এখানে আছে সেগুলোই পুরোপুরি দেয় না। কেন্দ্রের ৪ হাজার কিলোমিটার রাস্তা তৈরির কথা ছিল। কিন্তু হল না। ৪০০ কিমি রাস্তাও হয়নি। কারণ, এরা করতে দেয়নি।"
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পে কেন্দ্র গরিব মানুষের টাকা আটকে রেখেছে বলে বারে বারে অভিযোগ করে এসেছে রাজ্য সরকার। টাকা না পেয়ে রাজ্যের তরফে বাংলা আবাস যোজনা প্রকল্পে গরিব মানুষের বাড়িও তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। মোদী অবশ্য এজন্য দায়ী করেছেন তৃণমূলের কাটমানিকে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজেপি সরকার গোটা দেশে ঘর তৈরি করে দিচ্ছে গরিবদের। কিন্তু এখানে সরকার করতে দেয় না। কারণ তৃণমূলের লোক এই টাকা থেকে কাটমানি খায়। কেন তৃণমূল এত নির্মম?
চা বাগানের শ্রমিক থেকে গরিব-দলিত, পিছিয়ে পড়া শ্রেণি, জনজাতি প্রত্যেকটি সম্প্রদায়কে নিয়েই তৃণমূল ভোটের রাজনীতি করছে বলেও অভিযোগ করেছেন মোদী। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, "রাজনীতি নিজের জায়গায়, কিন্তু গরিব-দলিত- পিছিয়ে পড়া শ্রেণি-মহিলাদের সঙ্গে কেন রাজনীতি করছে তৃণমূল? ওবিসি নিয়ে যে যে সুবিধা আছে তা বাংলায় লাঘুই হতে দেয় না। একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্য সরকার এখানে চালু করে না।
তৃণমূলের সরকার কতখানি জনবিরোধী তা বোঝাতে প্রধানমন্ত্রী এও বলেন, রাজ্যে বিশ্বকর্মা ভাই-বোন আছে। যাদের শৈল্পিক সত্বা অসাধারণ। বিজেপি বিশ্বকর্মা যোজনা এনেছে। এই প্রকল্পে লোকজন ট্রেনিং পান, টুলকিট পান। কিন্তু এ রাজ্যের আট লক্ষ অ্যাপ্লিকেশন আটকে আছে।
জনজাতিদের প্রতিও তৃণমূল কীভাবে অবিচার করেছে তার উদাহরণ দিতে গিয়ে মোদী বলেন, ২০২২ সালে এনডিএ এক আদিবাসী মহিলাকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য নির্বাচন করেছিল, তখন তৃণমূলই সবার আগে বিরোধিতা করে। আদিবাসীদের সঙ্গে এদের কোনও সম্পর্ক নেই। এরা গরিব আদিবাসীর বিকাশ হতে দেয় না। তাই তো বাংলায় পিএম জন্ম যোজনা লাগু করতে দেয় না এরা।
সম্প্রতি নীতি আযোগের বৈঠকে বাংলার সরকারের কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিল না। এদিনের সভায় ওই প্রসঙ্গ টেনে মোদীর কটাক্ষ, "নীতি আয়োগের বৈঠকে গরিব মানুষের বিষয়ে আলোচনা হয়। সেখানে তৃণমূল ছিল না। কারণ, ওরা ২৪ ঘণ্টাই রাজনীতি করতে ব্যস্ত!"