
শেষ আপডেট: 7 April 2024 12:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার ভূপতিনগরে এনআইএ-র উপর হামলার নেপথ্যে বিজেপির চক্রান্তের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সরাসরি বিজেপির সঙ্গে আঁতাত করে তৃণমূল কর্মীদের হেনস্থা করছে এনআইএ, এমনই অভিযোগ তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। শুধু তাই নয়, এনআইএ-র এসপি ধনরাম সিং-এর বাড়িতে বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি কবে কখন গিয়েছিলেন, রবিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে সেই তথ্য তুলে ধরলেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, গত ২৬ মার্চ এনআইএ-এর এসপি ধনরাম সিংহের বাড়িতে বৈঠক করেন বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি। বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে অর্থের বিনিময়ে তৃণমূল কর্মীদের ফাঁসানো হচ্ছে। অবিলম্বে ধনরাম সিং-কে বাংলা থেকে বহিষ্কার করতে হবে।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল ঘোষ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এসপি ধনরাম সিং-এর বাড়ির ঠিকানা তুলে ধরে জানান, সেখানে গত ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় সাড়ে ৬ টায় গিয়েছিলেন বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি। আর সেখানেই বাংলার কোন তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে এনআইএ হানা দেবে তার তালিকা দেওয়া হয় বলে দাবি কুণালের। শুধু তাই নয়, একটি সাদা প্যাকেটও এনআইয়ের ওই অফিসারকে দেন বিজেপি নেতা। সেই প্যাকেটে টাকা ছিল কি না তা পুলিশের কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছে তৃণমূলের মুখপাত্র।
কুণালের দাবি, ভোট ঘোষণার পর যখন নির্বাচনী আচরণবিধি জারি রয়েছে ঠিক তখনই বিজেপির সঙ্গে এনআইএ-র অর্থের লেনদেন হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতেই শনিবার ভোর রাতে ভূপতিনগরে হানা দেয় তদন্তকারীরা। তাই ধনরাম সিং-এর বিরুদ্ধে এফআইআর করা হোক। তৃণমূলের স্পষ্ট অভিযোগ, বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েই অর্থের বিনিময়ে তৃণমূল কর্মীদের ফাঁসানো হচ্ছে।
এনআইএ সূত্রের দাবি, ভূপতিনগর বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তে শনিবার ভোরে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। সেখান থেকে দু'জন অভিযুক্তকে আটক করে গাড়িতে তোলার পরই গ্রামবাসীদের একাংশ হামলা চালায়। গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। ঘটনায় দুজন আধিকারিক জখম হয়েছেন। ভূপতিনগর বিস্ফোরণ কাণ্ডে সম্প্রতি আটজনকে এনআইএ-র কলকাতার দফতরে হাজির দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অভিযুক্তরা হাজিরা না দেওয়ায় শনিবার ভোরে গ্রামে পৌঁছন তদন্তকারীরা।অভিযোগ, গ্রামের মহিলারা তদন্তকারীদের ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। গ্রামবাসীদের হামলায় গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। দু'জন আধিকারিক জখমও হন।
ইডি, সিবিআই, এনআইএ-র মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাজে লাগাচ্ছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার, বার বার এমনই অভিযোগ করেছে তৃণমূল। ভূপতিনগরে কেন্দ্রীয় এজেন্সির উপর হামলার ঘটনাতেও একই দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ভূপতিনগরের ঘটনায় তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, যেভাবে স্থানীয় পুলিশের অনুমতি ছাড়া মধ্যরাতে এনআইএ গ্রামে ঢুকেছিল তাতে স্থানীয় গ্রামবাসীদের ক্ষোভের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। রবিবার সেই একই অভিযোগ করে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, "এনআইএ-র সঙ্গে কোনও মহিলা অফিসার ছিলেন না। তাই মাঝরাতে বাড়িতে হানা দিলে মহিলাদের উত্তেজিত হয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক।"
অন্যদিকে, শুধু এনআইএ নয়, বিজেপির সঙ্গে আরও দুই কেন্দ্রীয় এজেন্সির আঁতাতের প্রমাণ রয়েছে বলেও এদিন দাবি করেন কুণাল। সেইসব ভিডিও প্রকাশের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।