ফর্ম সেভেন জমা করা নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় লালবাগ মহকুমা শাসকের দফতর সংলগ্ন এলাকায়।

শেষ আপডেট: 19 January 2026 16:03
দ্য় ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ: SIR-এর প্রতিবাদে (Sir In West bengal) বিক্ষোভ তো চলছিলই। এবার ফর্ম সেভেন জমা (SIR Form 7) করা নিয়ে তেতে উঠছে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা। সোমবার দুপুরে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে তেতে ওঠে মুর্শিদাবাদের লালবাগ। ফর্ম সেভেন জমা করা নিয়ে তৃণমূল (TMC) ও বিজেপি (BJP) কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় লালবাগ মহকুমা শাসকের দফতর সংলগ্ন এলাকায়।
অভিযোগ, মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়কের নেতৃত্বে ফর্ম সেভেন জমা দিতে গিয়েছিল মুর্শিদাবাদ সংগঠনিক জেলা বিজেপির নেতাকর্মীরা। তখন তাঁদের ফর্ম কেড়ে নিয়ে তৃণমূলের কর্মীরা আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপরে পুলিশের সামনেই তৃণমূল সভাপতির গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে যায়।
নওদা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উত্তাল হয় নওদাও। নওদা ব্লকের আমতলা এলাকায় রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মী ও সমর্থকেরা। বিক্ষোভ চলাকালীন নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর কুশপুতুল দাহ করা হয়।
এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন নওদা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি শফিউজ্জামান শেখ। তিনি অভিযোগ করেন, SIR-এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার চেষ্টা চলছে। অবিলম্বে এই প্রক্রিয়া বন্ধ হওয়া দরকার। তৃণমূলের বিক্ষোভে তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছলে পুলিশের সামনেই চলে ধস্তাধস্তি। এই ঘটনায় এলাকায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ উঠে যায় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ফর্ম সেভেন পূরণ করা নিয়ে রাস্তায় বসলেন পড়লেন সাগরদিঘির বিধায়ক বায়রন বিশ্বাসও। সোমবার সকালে বিধায়কের নেতৃত্বেই সাগরদিঘির রাজ্য সড়ক অবরোধ করে চলে প্রতিবাদ কর্মসূচি। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, এসআইআর-এর নাম করে সাধারণ মানুষকে অহেতুক নথি দেখাতে বাধ্য করা হচ্ছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষজন সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখে পড়ছেন। ঘটনার প্রতিবাদে বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস রাজ্য সড়কে বসে পড়েন এবং বিক্ষোভে অংশ নেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বহু দলীয় কর্মী-সমর্থক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বায়রন বলেন, "জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। দাবি মানা না হলে আগামী দিনেও আন্দোলন জারি থাকবে।"