
সকাল থেকে ব্যাহত পরিষেবা
শেষ আপডেট: 28 August 2024 09:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার নবান্ন অভিযানে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি। এরপরই বুধবার ১২ ঘণ্টার বনধের ডাক দেয় তাঁরা। তার জেরে আজ সকাল থেকে কলকাতা সহ একাধিক জেলায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বহু জায়গায় রেল অবরোধ করা হয়েছে। কলকাতাতেও মেট্রো বন্ধের চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে সার্বিকভাবে ব্যাহত হচ্ছে ট্রেন পরিষেবা।
কলকাতায় ধর্মতলা, শ্যামবাজার সহ বিভিন্ন এলাকার মেট্রো পরিষেবা বিঘ্নিত হয়েছে বনধের কারণে। সাতসকালে শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশন অবরোধ করতে আসেন বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী-সমর্থক। যদিও তাঁদের আটক করে পুলিশ। অন্যদিকে ধর্মতলাতেও উত্তেজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সেখানেও মেট্রো বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা হয়। শুধু কলকাতা নয়, একাধিক জেলায় লোকাল ট্রেন পরিষেবাও ব্যাহত।
১২ ঘণ্টার বাংলা বনধের জেরে বারাসতে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। ট্রেন অবরোধ ঘিরে তৃণমূল-বিজেপি খণ্ডযুদ্ধ হয়েছে। চলেছে ভাঙচুরও। সকাল থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বারাসত স্টেশন এবং তার আশেপাশের চত্বর। বিজেপি কর্মীরা লোকাল ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনে অবস্থান করেন, কেউ তার মাথার ওপর উঠে যান। এরপরই তাঁদের বাধা দিতে আসে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। শুরু হয়ে যায় সংঘর্ষ। দু'পক্ষের মধ্যে মারপিট, ধ্বস্তাধস্তি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ এবং জিআরপি। অন্যদিকে বারাসতের চাপাডালি মোড়ে একাধিক বাস এবং গাড়ির চাবি খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। বহু গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে সোনারপুরে বিজেপির ট্রেন অবরোধ ঘিরেও উত্তেজনা ছড়ায়। রেল লাইনের উপর শুয়ে পড়েন কয়েকজন কর্মী, তাঁদের তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা, ধস্তাধস্তিও হয়। কৃষ্ণনগরেও কার্যত একই ছবি ধরা পড়েছে। সেখানেও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক নয়। পাশাপাশি লক্ষীকান্তপুরে ওভারহেড তারে কলাপাতা দেওয়ার ফলে ট্রেন পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেছে। রেল সূত্রে খবর, শিয়ালদহ থেকে লক্ষ্মীকান্তপুর, কাকদ্বীপ, নামখানাগামী ট্রেন চলাচল বন্ধ।
সকালেই রেল অবরোধ হয়েছে হুগলি স্টেশনে। হুগলি স্টেশনে ব্যান্ডেল-হাওড়া লোকাল আটকায় বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। রেললাইনে শুয়ে পড়ায় কিছুক্ষণের জন্য লোকাল ছাড়তে দেরি করে। সকাল ৬টা নাগাদ বনগাঁ উত্তরের বিধায়কের নেতৃত্বে বিজেপির কর্মী সমর্থকরা আসেন বনগাঁ স্টেশনে। তারপর তারা রেল স্টেশনে অবরোধ করে দেন।
ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সকাল থেকেই ওই লাইনের একাধিক স্টেশনে দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন যাত্রীরা। ট্রেন না পেয়ে অনেকেই সড়কপথে রওনা দিয়েছেন নিজেদের গন্তব্যের উদ্দেশে। ফলে বাস ও অটোতে অতিরিক্ত ভিড়।