মেরিভিউ চা বাগানের শ্রমিক মধুবালা টামাং-এর চোখে জল, “ওই ছোট হাতিটা আগেও দেখেছি, মায়ের পাশে খেলত। বিশ্বাসই হচ্ছে না, আজ ও আর নেই…”
.jpeg.webp)
এআই ছবি।
শেষ আপডেট: 1 November 2025 17:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নকশালবাড়ির (Naxalbari) সবুজে মোড়া মেরিভিউ চা বাগান। শনিবার সকালে বাগানের এক কোণে পড়ে থাকা মাস দু’য়েকের এক হস্তিশাবকের (tragic death of an elephant cub) নিথর দেহ ঘিরে চাঞ্চল্য। বনবিভাগের অনুমান, বড় হাতির দলের পায়ে পিষ্ট হয়েই মৃত্যু হয়েছে ওই শাবকের ('Crushed by the feet of his own party)। তবে ময়নাতদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ।
কার্শিয়াং ডিভিশনের ডিএফও দেবেশ পান্ডে জানান, “শুক্রবার রাতে হাতির একটি দল বাগডোগরা বনাঞ্চল ঘেঁষে মেরিভিউ চা বাগান এলাকায় ঢোকে। অনুমান, সেই সময় হাতিরা চলাফেরা করার সময়েই হস্তিশাবকটি তাদেরই পায়ে পিষ্ট হয়। তবে সঠিক কারণ জানার জন্য ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।”
স্থানীয় সূত্রে খবর, রাতে হাতির দল ঢোকার শব্দ শুনেছিলেন চা বাগানের কয়েকজন শ্রমিক। তাঁরা জানান, “মাঝরাতে হাতির চিৎকারে ঘুম ভেঙে গিয়েছিল। ভোরে দেখি, চা গাছের আড়ালে ছোট হাতিটার দেহ পড়ে আছে।’’
বন দফতরের কর্মীরা শনিবার সকালেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যান। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গিয়েছে, মৃত হাতিটির গায়ে গভীর ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে, বড় হাতিরা বনের ভেতর থেকে চা বাগানে চলে আসার পর ভিড়ের মধ্যে পড়ে শাবকটি চাপা পড়ে যায়।
বন দফতরের এক আধিকারিক বলেন, “এই মৌসুমে হাতির দল প্রায়ই খাবারের সন্ধানে চা বাগান বা গ্রামাঞ্চলে চলে আসে। অনেকে তাদের দিকে আলো ফেলে বা আওয়াজ করে তাড়ানোর চেষ্টা করেন, এতে হাতিরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। তখনই এমন দুর্ঘটনা ঘটে।”
ঘটনার পর বন দফতরের তরফে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছে। রাতে হাতির চলাচল টের পেলে যাতে কেউ বাগানের ভিতরে না যায়, সে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
মেরিভিউ চা বাগানের শ্রমিক মধুবালা টামাং-এর চোখে জল, “ওই ছোট হাতিটা আগেও দেখেছি, মায়ের পাশে খেলত। বিশ্বাসই হচ্ছে না, আজ ও আর নেই…”