স্থানীয়দের প্রশ্ন, জনপ্রতিনিধি হয়ে যদি প্রকাশ্যে আইন অমান্য করে পুলিশের গায়ে হাত তোলার অভিযোগ ওঠে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 23 August 2025 13:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘ভিআইপি দাদাগিরি’!
মালদহের (Maldah) নিউ ফরাক্কা ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে (Farakka) শুক্রবার দুপুরে ট্রাফিক চেকিং চলাকালীন কর্তব্যরত এক এএসআই-কে (Traffic Police ASI) প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ উঠল স্থানীয় তৃণমূল উপপ্রধানের বিরুদ্ধে (Trinamool deputy chief)। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত উপ প্রধানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতকে শনিবার আদালতে হাজির করিয়ে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এএসআই তাপস ঘোষ শুক্রবার একটি ইঞ্জিনচালিত ভ্যান আটকান। ভ্যানে পাট বোঝাই করে মালদহের দিকে যাচ্ছিল। ওই ধরনের গাড়ির জাতীয় সড়কে ওঠার অনুমতি নেই বলে চালককে থামিয়ে মুচলেকা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
এর পরই ভ্যানচালক খবর দেয় মালিককে। অভিযোগ, কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে হাজির হন বেওয়া-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান তারিকুল সেখ। সেখানে পৌঁছে তিনি নিজেকে জনপ্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে পুলিশের এএসআইকে উদ্দেশ করে চড়াও হন। চলে ধাক্কাধাক্কি, কটূক্তি, এমনকি প্রাণনাশের হুমকি। জখম হন এএসআই তাপস ঘোষ।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ফরাক্কা থানার পুলিশ। সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত তারিকুল সেখকে।
যদিও ধৃত উপ-প্রধানের দাবি, “আমি বেওয়া-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান। আমার গাড়ি পাট নিয়ে যাচ্ছিল। ট্রাফিক মোড়ে পুলিশ গাড়ি আটকায়, চাবি নিয়ে নেয়। কেন আটকানো হল তা জানতে গিয়েই সামান্য কথা কাটাকাটি হয়। মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে।”
ঘটনায় ফরাক্কার রাজনৈতিক মহলেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, জনপ্রতিনিধি হয়ে যদি প্রকাশ্যে আইন অমান্য করে পুলিশের গায়ে হাত তোলার অভিযোগ ওঠে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?