দ্য ওয়াল ব্যুরো : ইদানীং কালে পশুদের যেভাবে মানুষরা অত্যাচার করছে, তাতে কে পাশবিক আর কে মানবিক তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কেউ গর্ভবতী ছাগলকে ধর্ষণ করছে, কেউ কুকুর ছানার উপর অত্যচার করছে, কখনও পাশের বাড়ির বেড়ালকে পেট্রল দিয়ে জ্বালিয়ে দিচ্ছে কেউ। অবলা প্রাণীদের অবলীলায় মারা হচ্ছে। এবার ঘুমন্ত পাণ্ডাকে জাগাতে তাকে পাথর ছুঁড়লেন দর্শকরা। বেজিংয়ের চিড়িয়াখানার এই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়েছে নেটিজেনদের মধ্যে।
জায়ান্ট পাণ্ডা মেঙ দা সেদিন ঘুমোচ্ছিল বেজিংয়ের চিড়িয়াখানায়। তাকে ঘুম থেকে তুলতে প্রথমে একটি পাথর ছোঁড়া হয়। দর্শকদের মধ্যে থেকেই কেউ একটা এই কাজ করেন। সে সময়েই বাকি দর্শকরা এই কাজটি কে করছে, তা জানতে চান। মেঙ প্রথম ঢিলটি ছুঁড়ে দেয় দর্শকদের দিকেই। তার আধঘণ্টা পরে আরও একটা বড় পাথর ছোঁড়া হয় মেঙকে উদ্দেশ করে। যদিও সেই চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বারবারই বলেছে যে, এই ঢিল বা পাথরে কোনওভাবেই মেঙ আঘাত পায়নি। তবু মেঙদের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হবে কথাও দিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।
সব মিলিয়ে বেশ সমস্যার মুখে এ সব পশুরা। কয়েক দিন আগেই দক্ষিণ ভারতেও দেখা গেছে, একের পর এক কুকুরকে মেরে ফেলা হয়েছে বিষ খাইয়ে। তা নিয়ে এ দেশে কম শোরগোল হয়নি। আবার এই ঘটনা যখন চিনের সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট উইবোতে উঠে আসে, তখন নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলেছেন আসলে কে পশু? এ প্রসঙ্গে কেউ কেউ বলছেন, যাঁরা এই কাজ করছেন তাঁদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। মেঙদের যে থাকার জায়গা, সেখানে কাঁচ দিয়ে ঘিরে দিলেই তো এই সমস্যা অনেকটা কমানো যায়, এই উপদেশও দিয়েছেন অনেকেই।
এর আগে ফুজিয়ান প্রদেশের ফুজহু চিড়িয়াখানায় দর্শকদের অত্যাচারেই একটি ক্যাঙারু মরে গেছিল, তার এক মাসের মধ্যেই শাঙশি প্রদেশের চিড়িয়াখানায় আরও একটি পাণ্ডা আহত হয়েছিল। আর তারপর এবারও এই ঘটনায় পশুপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দানা বাধছে।