নির্বাচনী কাজে নিযুক্ত BLO-সহ SIR আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্যের সিইও-কে কড়া চিঠি পাঠাল নির্বাচন কমিশন। হামলা বা হেনস্থা ঘটলেই অবিলম্বে এফআইআর করার নির্দেশ।
.jpeg.webp)
নির্বাচন কমিশন
শেষ আপডেট: 13 December 2025 00:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত আধিকারিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে কড়া পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। বিএলও-সহ যে কোনও নির্বাচনী আধিকারিকের হেনস্থার ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে শুক্রবার চিঠি পাঠাল তারা।
গত ২৮ ডিসেম্বর রাজ্য পুলিশের ডিজিকে নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে পৃথক নির্দেশ পাঠানো হয়েছিল, তারপরও রাজ্যের নানা প্রান্তে বিএলওদের উপর হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। দিন দুই আগেই এক বিএলও-র বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছিল। এদিকে গতকাল দক্ষিণ ২৪ পরগনার রোল অবজারভার সি মুরুগানকেও বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। যে ঘটনার রিপোর্ট দিল্লিতে পাঠানো হয় তড়িঘড়ি।
তারপরই শুক্রবার ফের একবার চিঠি পাঠিয়ে কড়া ভর্ৎসনা করল নির্বাচন কমিশন। চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যে কোনও নির্বাচনী আধিকারিক (Election Official) কিংবা বিএলও–র উপর হামলা, হেনস্থা বা বাধা সৃষ্টি হলেই সংশ্লিষ্ট DEO (District Election Officer)-কে অবিলম্বে FIR (First Information Report) দায়ের করতে হবে। তা না হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কমিশন মনে করিয়ে দিয়েছে, এসআইআর–এর কাজে বাধা পড়লে বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ ব্যাহত হবে, যা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় এসআইআর-এর অগ্রগতির কাজ পরিদর্শনে যান বিশেষ পর্যবেক্ষক সি মুরুগান। সঙ্গে ছিলেন বিডিও শানু বক্সী। ৮৫, ৮৬ ও ৮৭ নম্বর বুথ এলাকায় বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা চলাকালীন তাঁদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় কিছু বাসিন্দা। TMC (Trinamool Congress) কর্মী–সমর্থকেরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মহিলাদের একটি দল ঝাঁটা হাতে প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মৃত ভোটারদের নাম তালিকায় রয়ে গিয়েছে, আবার জীবিত ভোটারদের নামও বাদ পড়ছে।
এই ঘটনার রিপোর্ট কমিশনে পৌঁছতেই নির্বাচন সদন উদ্বেগ প্রকাশ করে।
বিরোধীরা অভিযোগ তোলে, বহু জায়গায় এখনও পুরনো ভোটার তালিকার নাম ঠিকমতো সংশোধন হয়নি। অন্যদিকে শাসক দল তৃণমূল অভিযোগ করছে, BJP (Bharatiya Janata Party) ও কমিশন মিলিতভাবে এসআইআর-এর নাম করে ভোটারদের নাম কাটার পরিকল্পনা করছে।
মুখ্যমন্ত্রী গত কয়েকটি সভায় অভিযোগ করেছেন, বাংলায় দেড় কোটি ভোটার বাদ দেওয়ার “ষড়যন্ত্র” চলছে।
এদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, “এখনও নির্বাচন ঘোষণা হয়নি, তবু প্রশাসনকে ভয় দেখানো হচ্ছে। দিল্লি থেকে লোক এনে নাম কাটার কাজ করানো হচ্ছে। কেউ যোগ্য ভোটারের নাম কাটলে মেয়েরাই লড়াই করবে।” তিনি বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, “সুস্থ বাঘের চেয়ে আহত বাঘ ভয়ঙ্কর।”
চেকিং চলছে, তৎপর পর্যবেক্ষকরা
এনিউমারেশন পর্ব শেষ হলেও খসড়া তালিকা প্রকাশের আগে এসআইআর-এর কাজ চলছে জোরকদমে। তাই বিভিন্ন বুথে চেকিং, বাড়ি বাড়ি যাচাইয়ের কাজও বাড়ছে। নিয়োগ করা পর্যবেক্ষকরা প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখছেন। সেই কাজে কোনও বাধা না আসে, তা নিশ্চিত করতেই কমিশনের কঠোর অবস্থান।