দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাদাখে চিনা বাহিনীর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘাতে এক জন সেনা অফিসার ও ১৯ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু আরও কতজন আহত হয়েছেন সেই সংখ্যাটা বিষ্যুদবার সকাল পর্যন্ত স্পষ্ট ছিল না। সেনা সূত্রে রাতে জানানো হয়েছে, গাওয়াল উপত্যকায় পিএলএ সৈনিকদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে ৭৬ জন ভারতীয় জওয়ান আহত হয়েছেন।
সাউথ ব্লক সূত্রে বলা হয়েছে, এই ৭৬ জন জওয়ানের মধ্যে কারও অবস্থাই এখন আর সঙ্কটজনক নয়। আহতদের মধ্যে ১৮ জন লে-র হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আশা করা হচ্ছে তাঁরা ১৫ দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে তাঁদের নিজেদের বর্ডার পোস্টে ফিরে যাবেন। বাকি ৫৬ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাঁরা এক সপ্তাহের মধ্যেই নিজের বাহিনীতে ফিরবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
বস্তুত বৃহস্পতিবার সকালে পর্যন্ত কোনও কোনও মহলে ধন্ধ ছিল যে কয়েকজন ভারতীয় জওয়ানকে আটকে রেখেছে চিন। এখনও পর্যন্ত কয়েক জন জওয়ান নিঁখোজ। কিন্তু সাউথ ব্লক সূত্রে বলা হচ্ছে, তা সত্যি নয়। হেড কাউন্ট করে দেখা হয়েছে। কেউ নিঁখোজ নন।
সেনা কর্তারা জানাচ্ছেন, লোহার রড, পেরেক লাগানো কাঠের ডাণ্ডা, আর তারকাটা জড়ানো পাথরের চাঁই দিয়ে চিনা সৈনিকরা ভারতীয় জওয়ানদের উপর হামলা চালায়। মূলত গালওয়ান ও শাইওক নদীর মোহনায় ১৪ নম্বর পেট্রলিং পয়েন্ট ও তার আশপাশের ভূখণ্ডের অধিকার নিয়েই সংঘাত। তবে কৌশলগত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কস্মিনকালেও ওই ভূখণ্ড চিনের দখলে ছিল না। পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করতে চাইছে লাল ফৌজ।
সেনা সূত্রে বলা হচ্ছে, ভারতীয় জওয়ানরাও মোক্ষম জবাব দিয়েছেন। সংঘাতে চিনের অন্তত ৪৫ জন সেনা জওয়ান আহত বা নিহত হয়েছে। যদিও সে ব্যাপারে বেজিং সে ব্যাপারে টুঁ শব্দও করছে না। তা নিয়ে চিনের ঘরোয়া পরিবেশে ইতিমধ্যেই অসন্তোষও তৈরি হয়েছে। এবং সেই ক্ষোভ আছড়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে চিনের নিজস্ব সোশাল মিডিয়া উইবোতে।