দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে একগাদা ইমিউন বুস্টার খাচ্ছেন লোকজন। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ না নিয়েই ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট, হলুদ, মেথি, অ্যালোভেরা থেকে হোমিওপ্যাথি ওষুধের দেদার ব্যবহার হচ্ছে। এইসব কিছুরই সাঙ্ঘাতিক প্রভাব পড়ছে শরীরে। রোগ প্রতিরোধ বাড়াতে গিয়ে উল্টে জটিল রোগের শিকার হতে হচ্ছে বেশিরভাগকেই। সতর্ক করলে মুম্বইের অ্যাপোলো ও ফর্টিস হাসপাতালের ডাক্তার ডেজল লাথিয়া।
ডক্টর তেজল বলছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে কীভাবে বাঁচা যায় সেই সংক্রান্ত নানা বিভ্রান্তিকর ভিডিও, মেসেজ ছড়িয়ে পড়ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কেউ পরামর্শ দিচ্ছেন ভিটামিন ডি খেলেই রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে, আবার কেউ বলছেন হলুদ খেলে করোনা সংক্রমণ ধরবে না ইত্যাদি। এইসব বিজ্ঞাপনী চমকে ভুলে লোকজন নিজে নিজেই থেরাপি করা শুরু করে দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া যে কোনও ইমিউন বুস্টারের ডোজ নিলে তার প্রভাব কী হতে পারে সে সম্পর্কে ধারণাই নেই বেশিরভাগের। ডাক্তার বলছেন, টাইপ-২ ডায়াবেটিসের রোগী করোনা থেকে বাঁচতে একগাদা ভিটামিন ডি ট্যাবলেট খেয় ফেলেছিলেন। যার প্রভাবে তাঁর শরীরে ভিটামিন-ডি টক্সিসিটি দেখা গিয়েছে।
ভিটামিন ডি-এর স্বাভাবিক মাত্রা আছে শরীরে। ডাক্তার বলছেন, প্রতি মিলিলিটার রক্তে ১৫০ ন্যানোগ্রামের বেশি ভিটামিন ডি হয়ে গেলেই তার টক্সিক প্রভাব পড়তে শুরু করে। ঝিমুনি, বমিভাব, ডিহাইড্রেশন, অবসাদ ইত্যাদি নানা জটিলতা দেখা দিতে থাকে। ডক্টর তেজল বলছেন, তাঁর কয়েকজন রোগীর রক্তে এই ভিটামিন ডি এর মাত্রা ছিল ৩৪৮ ন্যানোগ্রাম/মিলিলিটারেরও বেশি। কারণ তাঁরা নিজেরাই বাহাদুরি দেখিয়ে ভিটামিন ডি ট্যাবলেট খেতে শুরু করে দিয়েছিলেন।
ডক্টর তেজলের সঙ্গে একমত কেরলের কোচিন গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি গ্রুপের হেপাটোলজির বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সাইরিক অ্যাব্বি ফিলিপ্স। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক সময় হোমিওপ্যাথি ওষুধ আর্সেনিকাম অ্যালবাম, জিঙ্ক, ভিটামিন সি ও ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্টের ব্যবহার অনেক বেড়ে গেছে। বেশিরভাগ রোগীই দাবি করেছেন, নানা বিজ্ঞাপন ও ভিডিও দেখে তাঁরা করোনা প্রতিরোধের জন্য এইসব ওষুধ খেতে শুরু করেছেন। তাছাড়া ঘরোয়া উপায় সংক্রমণ ঠেকাতে হলুদ, অ্যালোভেরা জুস ইত্যাদি খাওয়াও শুরু করেছেন অনেকে। ডক্টর সাইরিক বলছেন, তাঁর এক রোগী দিনে তিনবার দু’চামচ করে হলুদ খেয়ে খুব খারাপ অবস্থায় চলে গিয়েছিলেন।
ডাক্তাররা বলছেন, হোমিওপ্যাথি বা আয়ুর্বেদিক ওষুধের নির্দিষ্ট ডোজ থাকে। ইমিউন বুস্টার নিলেও তার নির্দিষ্ট মাত্রা থাকে। রোগীর শারীরিক গঠন, রোগের ধরন, ওজন, বয়স ইত্যাদি অনেক কিছু দেখেই ডাক্তাররা ওষুধ প্রেসক্রাইব করেন। সমীক্ষা বলছে, সাম্প্রতিক সময় প্রায় ৯২ শতাংশ ইমিউন বুস্টার বিক্রি হয়েছে দেশের বাজারে। চ্যবনপ্রাশ, তুলসির নির্যাস, হলদি, আমলা, গ্রিন টি, প্রোবায়োটিক্স, আয়ুর্বেদিক ইমিউন বুস্টার যাদের মধ্যে অন্যতম। ডাক্তাররা বলছেন, যে কোনও ইমিউন বুস্টার নেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন। নিজে নিজেই ডাক্তারি করলে তার ফল খারাপ তো হবেই, জটিল রোগও হানা দেবে শরীরে।