রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) আগেই জানিয়েছিলেন, এই বন্দে ভারত স্লিপারে স্থানীয় খাবারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বন্দে ভারত স্লিপারের মেনুতে ভেজ খাবার
শেষ আপডেট: 22 January 2026 19:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার (Vande Bharat Sleeper) এক্সপ্রেস চালু হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের মধ্যে। আধুনিক রেলযাত্রার নতুন অধ্যায়, এমনটাই বলছে রেল। কিন্তু ট্রেনের চাকা ঘোরার আগেই শুরু হয়ে গেল বিতর্ক। কারণ, এই অত্যাধুনিক বন্দে ভারত স্লিপারে যাত্রীরা পাচ্ছেন শুধু নিরামিষ (Veg) খাবার। মেনুতে নেই কোনও নন ভেজ (Non-Veg) অপশন। বাংলা থেকে চলবে অথচ মাছ-মাংস নেই! এ নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়া তোলপাড়ের পর এবার সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)।
বিজেপি (BJP) ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) নিশানা করে বাঙালির ‘মাছ-ভাতের থালা’ নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছে শাসকদল।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি বঙ্গ সফরে এসে মালদহ থেকে এই বন্দে ভারত স্লিপারের উদ্বোধন করেন। হাওড়া (Howrah) থেকে কামাখ্যা (Kamakhya) রুটে সপ্তাহে ছ’দিন চলবে দেশের প্রথম এই স্লিপার বন্দে ভারত। ২৩ জানুয়ারি অর্থাৎ আগামিকাল থেকে জনসাধারণের জন্য ট্রেনের পরিষেবা শুরু হচ্ছে। ইতিমধ্যেই অনলাইনে টিকিট কাটতে শুরু করেছেন যাত্রীরা। কিন্তু টিকিট কাটার সময় খাবারের অপশনে ঢুকতেই চোখ কপালে উঠছে। সেখানে শুধুই নিরামিষ খাবারের তালিকা। মাছ-মাংস বা ডিম—আমিষের কোনও বিকল্পই নেই।
First they policed our votes. Now they’re policing our plates.
Just days ago, @narendramodi was busy boasting about giving Bengal a new Vande Bharat sleeper train. What he didn’t mention however is that on the Vande Bharat train running from Bengal to Assam, fish and meat have… pic.twitter.com/46z8zRs39O— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) January 22, 2026
এই বিষয়টি সামনে আসতেই বৃহস্পতিবার এক্স (X)-এ একটি পোস্ট করে তীব্র আক্রমণ শানায় তৃণমূল। তাদের বক্তব্য, “প্রথমে ওরা আমাদের ভোটে নজরদারি করেছে। এবার আমাদের খাবারের থালাতেও নজরদারি চালাচ্ছে।” তৃণমূলের অভিযোগ, বাংলা থেকে অসম, দুই রাজ্যের মানুষই আমিষপ্রিয়। সেখানে এমন একটি দীর্ঘপথের ট্রেনে শুধুমাত্র নিরামিষ খাবার চাপিয়ে দেওয়া আসলে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের নামান্তর। পোস্টে আরও দাবি করা হয়, বাঙালিকে ‘মুঘল’ তকমা দেওয়ার মানসিকতাই এর নেপথ্যে কাজ করছে।
তৃণমূলের তরফে উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে, দিল্লিতে মাছ নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ, চিকেন প্যাটিস বিক্রির অভিযোগে এক গরিব হকারকে মারধরের ঘটনা—সব মিলিয়ে বিজেপির একটি নির্দিষ্ট খাদ্যসংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতাই ফের সামনে এল। দলের বক্তব্য, “আজ বলছে আমরা কী খাব। কাল বলবে আমরা কী পড়ব, কাকে ভালবাসব, কার সঙ্গে থাকব।”
এই বিতর্কে আরও ঘি ঢালেন তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী (Arup Chakraborty)। তাঁর কটাক্ষ, “বাংলায় এসে এই গাড়ি উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিজেপি বাঙালির মাছ-ভাতের থালার উপর বন্দে ভারত চালাতে চাইছে। পাল্টা বাংলার মানুষ বিধানসভা ভোটে বিজেপির দৃষ্টিভঙ্গির উপর দিয়ে আন্দোলন লোকাল চালাবে।” উল্লেখযোগ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) রেলমন্ত্রী থাকাকালীন সিঙ্গুর আন্দোলনের স্মরণে ‘আন্দোলন লোকালে’র নামকরণ করেছিলেন, সে প্রসঙ্গও টেনেছেন তিনি।
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) আগেই জানিয়েছিলেন, এই বন্দে ভারত স্লিপারে স্থানীয় খাবারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাওড়া থেকে ছাড়লে মেনুতে থাকছে বাসন্তী পোলাও, ছোলার ডাল বা মুগ ডাল, ঝুরি আলু ভাজা, ছানা বা ধোকার ডালনা, লাবড়া, সন্দেশ ও রসগোল্লা। আবার অসম থেকে হাওড়ামুখী ট্রেনে থাকবে জোহা ভাত, মাটি মাহর ডালি, মুসুর ডালি, মরসুমি সবজির ভাজা ও নারকেল বরফি। কিন্তু গোটা মেনুতেই আমিষের কোনও ছাপ নেই—সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড়।
এই নিয়ে আইআরসিটিসি (IRCTC)-র ঘাড়ে দায় চাপায় রেল। কিন্তু স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি। এনিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও ঝড় উঠেছে। অনেকেই এই 'চাপিয়ে দেওয়া' বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। কয়েকজন বলছেন, 'নিরামিষ খাই না, যাব না।' অনেকে আবার বলছেন, বাঙালিকে এতদিন ভেজ খাওয়াবে!
সব মিলিয়ে, আধুনিক ট্রেন, ঝকঝকে কামরা আর দ্রুতগতির যাত্রার মাঝেই খাবারের থালা ঘিরে শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বন্দে ভারত স্লিপার আদৌ কি যাত্রীদের পছন্দমতো খাবার বদলাবে, না কি নিরামিষই হয়ে উঠবে ‘একটাই অপশন’, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে।