বাংলাদেশি সন্দেহে সোনালি বিবিকে পরিবার সহ বাংলাদেশে পুশব্যাক করে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তবে আদালতের নির্দেশের পর তাঁকে ফেরাতে বাধ্য হয়েছে তাঁরা।
.jpeg.webp)
শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং সোনালি বিবি
শেষ আপডেট: 6 December 2025 18:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ টানাপড়েনের পর শুক্রবার দেশে ফিরেছেন বীরভূমের অন্তঃসত্ত্বা সোনালি বিবি (Sonali Bibi)। সঙ্গে ফিরেছে তাঁর আট বছরের ছেলেও। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা কিছুতেই থামছে না। শনিবারই সাংবাদিক বৈঠক করে সোনালি বিবির (Sonali Bibi) ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রকে তুলোধনা করল মহিলা তৃণমূল। শশী পাঁজা (Shashi Panja) এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের (Chandrima Bhattacharya) অভিযোগ, বাংলাকে ঘৃণা করে বিজেপি (BJP), তাই এমন কাজ করেছে।
বাংলাদেশি সন্দেহে সোনালি বিবিকে পরিবার সহ বাংলাদেশে পুশব্যাক (Bangladesh Pushback) করে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তবে আদালতের নির্দেশের পর তাঁকে ফেরাতে বাধ্য হয়েছে তাঁরা। মহদিপুরের ওপারে বাংলাদেশের চাপাই নবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানার বড় সোনা মসজিদ এলাকায় ছিলেন তিনি। সেখান থেকেই ফেরানো হয়। শনিবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে তৃণমূলের অভিযোগ - সোনালি বিবির সব প্রমাণপত্র (Evidence) ছিল। দলিল থেকে শুরু করে, বাবা-মার ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে (Voter List) নামও পাওয়া গেছিল। তবু কেন্দ্র চোখে কালো চশমা পরেছিল। কারণ বাংলার প্রতি তাদের ঘৃণা।
চন্দ্রিমা বলেন, কী কারণে সোনালি বিবির সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার এমন ব্যবহার করল তা তাঁরা জানতে চান। তিনি বাংলায় (Bengali) কথা বলেন বলে, নাকি অন্য সম্প্রদায়ের বলে। একই সঙ্গে তাঁদের বক্তব্য, শুধুমাত্র বাংলার প্রতি বঞ্চনা এবং ঘৃণার মনোভাব নিয়েই কেন্দ্রীয় সরকার এমন কাজ করছে।
প্রসঙ্গত, দিল্লিতে বাংলায় কথা বলায় সোনালি বিবিকে ‘বাংলাদেশি সন্দেহভাজন’ (Bangladeshi Suspect) বলে ধরা হয়। এরপর কোনও পূর্ণাঙ্গ যাচাই-বাছাই (Verification Process) ছাড়াই বিএসএফ তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে অসম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক (Pushback Action) করে বলে অভিযোগ।
বাংলাদেশের চাপাই নবাবগঞ্জের বড় সোনা মসজিদ (Boro Sona Masjid) এলাকায় ছিলেন সোনালি। সেখানে জামিনের পর স্থানীয় পুলিশ নিরাপত্তা দিয়েছিল। নবাবগঞ্জের এক বাসিন্দার বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল তাঁর ও আট বছরের ছেলের। তবে শুরু থেকেই সোনালির আবেদন ছিল, তিনি নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা (Pregnant Woman)। ভারতীয় হয়ে এদেশেই সন্তান জন্ম দিতে চান। অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে দেশে ফেরেন তিনি।
অন্যদিকে শশী পাঁজা বিজেপিকে পাল্টা অনুপ্রবেশকারী ইস্যু নিয়েই খোঁচা দিয়েছেন। তিনি বলছেন, ভোট আসলেই ভারতীয় জনতা পার্টির অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গা, বাংলাদেশিদের কথা মনে পড়ে। কিন্তু তাঁদের নিজের দলের লোকেরই ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশে ভোটাধিকার রয়েছে!
বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য সুভাষ চন্দ্র মণ্ডল - এই নাম তুলে শশীর অভিযোগ, তিনি ভারতের স্বরূপনগরে রয়েছেন নির্বাচিত পঞ্চায়েত স্তরে এবং বাংলাদেশের সাতক্ষীরাতে সুভাষ মণ্ডল হিসেবে রয়েছেন।
তাহলে বিজেপি কীভাবে অনুপ্রবেশ নিয়ে কথা বলে, সেই প্রশ্নই তুলছে তৃণমূল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহই বা কী বলবেন, সেটাও জানতে চেয়েছে তাঁরা।