প্রথমবার সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে জানানো হয়, সময়ের অভাবের কারণেই এই মুহূর্তে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। এরপরও হাল ছাড়েনি শাসক দল।

দ্রৌপদী মুর্মু
শেষ আপডেট: 13 March 2026 17:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Elections 2026) আগে নতুন করে রাজনৈতিক টানাপড়েন তৈরি হয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্ক ঘিরে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে (Droupadi Murmu) অপমানের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বিতর্ক ছড়িয়েছে। এই আবহে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আবেদন জানালেও এখনও সময় পায়নি তৃণমূলের প্রতিনিধি দল (TMC Delegation)।
সূত্রের খবর, বিধানসভা নির্বাচনের আগেই রাজ্যের জনজাতি উন্নয়ন সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দিতে চায় তারা। সেই উদ্দেশেই তৃণমূলের সাংসদদের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন জানায়।
কিন্তু প্রথমবার সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে জানানো হয়, সময়ের অভাবের কারণেই এই মুহূর্তে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। এরপরও হাল ছাড়েনি শাসক দল। আবারও রাষ্ট্রপতি ভবনে চিঠি পাঠিয়ে সাক্ষাতের জন্য নতুন করে সময় চাওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, দ্বিতীয় চিঠিতে ১২ থেকে ১৫ জন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে চায় বলে জানানো হয়েছে। তবে সেই আবেদন নিয়েও এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে। জানা যাচ্ছে, আগামী সপ্তাহে আবারও নতুন করে আবেদন জানাতে পারে তৃণমূল। সেই চিঠিতে দলীয় অবস্থান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হতে পারে।
এই ঘটনাপ্রবাহের পেছনে সম্প্রতি তৈরি হওয়া বিতর্ককে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। উত্তরবঙ্গ সফরে এসে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। শিলিগুড়িতে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনি নিজেও বাংলার মেয়ে হলেও অনেক সময় বাংলায় আসতে অসুবিধা হয় বলে তাঁর মনে হয়েছে।
সেই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি আক্ষেপের সুরে বলেন, আয়োজনে যথেষ্ট পরিসর নেই বলে জানানো হলেও বাস্তবে অনেক বেশি মানুষের জায়গা হওয়ার মতো পরিকাঠামো সেখানে ছিল। একই সঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ‘ছোট বোন’ সম্বোধন করে তাঁর প্রতি রাগের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। যদিও তিনি স্পষ্ট করেন, বিষয়টি নিয়ে তাঁর কোনও ব্যক্তিগত অভিযোগ নেই।
এর পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানানো এবং সভাস্থল নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার জেরেই কি সাক্ষাতের আবেদন বারবার ঝুলে রয়েছে - সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে রাজনৈতিক অন্দরে।