মহেশতলার ঘটনায় ইতিমধ্যে রাজ্য-রাজনীতি উত্তাল। দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তাল হয়েছিল পরিস্থিতি। ঘটনায় পুলিশও আক্রান্ত হয়।

অরূপ চক্রবর্তী, কুণাল ঘোষ এবং দেবাংশু ভট্টাচার্য
শেষ আপডেট: 12 June 2025 16:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহেশতলার ঘটনায় (Maheshtala Incident) ইতিমধ্যে রাজ্য-রাজনীতি উত্তাল। দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তাল হয়েছিল পরিস্থিতি। ঘটনায় পুলিশও আক্রান্ত হয়। তবে বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্য পুলিশের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করে জানান হয়েছে, মহেশতলার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তবে সেই এলাকার কিছু দূর থেকেই বিস্ফোরক সহ ৫ জনকে গ্রেফতার (Arrest) করেছেন তাঁরা। আর এই গ্রেফতারি নিয়েই আলাদা করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে বাংলায়। শুরু হয়েছে শাসক-বিরোধী তরজা।
বুধবার রাত ৮টা নাগাদ বজবজ থানা অন্তর্গত এলাকা থেকে পুলিশ বিপুল পরিমাণে বিস্ফোরক (Explosive Metarials) গুঁড়ো উদ্ধার করে। এই ঘটনায় মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নবীন চন্দ্র রায় নামের এক যুবক রয়েছেন ধৃতদের মধ্যে। জেরার সময় ব্যক্তি স্বীকার করেছেন যে তিনি আরএসএস এবং বিজেপির সক্রিয় (BJP Worker) কর্মী। পুলিশের দাবি, রামনবমীর দিন তিনিই বাটা মোড় এলাকায় উপস্থিত ছিলেন, যেখানে মিছিলের পথ এবং ব্যারিকেড নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল। ভিডিও ফুটেজে তাঁকে পুলিশ ব্যারিকেড ছুড়তেও দেখা যায়।
এই খবর পাওয়া মাত্রই বিজেপিকে (BJP) বিঁধতে শুরু করেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেন, বিস্ফোরক সহ ধরা পড়েছেন বিজেপি-আরএসএস কর্মী। বোঝাই যাচ্ছে, বিজেপি নেতারা কী কারণে ওই এলাকায় যেতে চাইছেন। কুৎসা রটানোর পরিকল্পনা এবং ষড়যন্ত্র করছে বিজেপি বলে দাবি তাঁর। কুণালের দাবি, বিজেপিই এমন ঘটনা ঘটিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে।
তৃণমূল যুবনেতা দেবাংশুর (Debangshu Bhattacharya) বক্তব্য, মহেশতলায় বিস্ফোরকগুলি ব্যবহার করার ছক ছিল না বিজেপির, এটা বলা যায় না। যে সময়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল তার কয়েক ঘণ্টা পরই বজবজ থানা এলাকা থেকে বিজেপি-আরএসএস সক্রিয় সদস্য সহ ৫ জন গ্রেফতার হয়। অন্যদিকে, মহেশতলায় যাওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদাররা। এতেই বোঝা যায় আরও উস্কানি দিয়ে পরিস্থিতি খারাপ করার ছক রয়েছে বিজেপির।
দলের অন্যতম মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর (Arup Chakraborty) কথায়, বিজেপি-আরএসএস কর্মী মহেশতলার অদূরেই বিস্ফোরক নিয়ে ধরা পড়েছেন। মুর্শিদাবাদে যেভাবে বিজেপি উস্কানি ছড়িয়ে পরিস্থিতি খারাপ করার চেষ্টা করেছিল, ঠিক একই ভাবে মহেশতলাতেও তেমনই ছক ছিল। একজন বিজেপি কর্মীর কাছে এত পরিমাণ বিস্ফোরক কোথা দিয়ে এল, তার জবাব বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দেবেন কিনা, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির এই ধরনের উস্কানি দেওয়া এবং ষড়যন্ত্র করা নতুন কিছু নয়। মুর্শিদাবাদ, সন্দেশখালি এর উদাহরণ রেখেছে। এখন মহেশতলার ঘটনা নিয়েও নোংরা রাজনীতিতে নেমেছে গেরুয়া শিবির।