.webp)
ফর্ম ছাপিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চোরাপাচার কারবারিদের ছাড়পত্র দেওয়ার অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ।
শেষ আপডেট: 8 July 2024 12:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের বিরুদ্ধে গোমাংস পাচারের ছাড়পত্র দেওয়ার অভিযোগ তুললেন তৃণমূলের লোকসভা সদস্য মহুয়া মৈত্র। সোমবার সকালে এক এক্সবার্তায় বনগাঁ লোকসভার এমপি, তথা কেন্দ্রীয় বন্দর ও জাহাজমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের নাম ছাপানো সরকারি প্যাডে লেখা ওই চিঠি পোস্ট করে মহুয়া এই অভিযোগ করেছেন।
কৃষ্ণনগরের তৃণমূল এমপি লিখেছেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সরকারি সিলমোহরে নাম-ঠিকানাসহ একটি ফর্ম ছাপিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চোরাপাচার কারবারিদের ছাড়পত্র দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে। শুধু তাই নয়, গোরক্ষক পার্টির নেতা গরুর মাংস পাচারের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ওই লিখিত চিঠিতে।
মহুয়ার অভিযোগ, বিএসএফের ৮৫বিএনকে কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সীমান্ত চোরাকারবারিদের ছাড়পত্র দিয়েছেন যাতে ৩ কেজি করে গোমাংস চালান করা যেতে পারে। শেষে মহুয়া লিখেছেন, হ্যালো কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, গোরক্ষক সেনারা, গোদি মিডিয়া।
এ বিষয়ে মন্ত্রী তথা মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে দ্য ওয়াল যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, মহুয়া মৈত্র যা লিখেছেন, মহুয়া মৈত্র কিছুই জানেন না এ বিষয়ে। মহুয়া মৈত্রের জানা উচিত ছিল স্বরূপনগর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত হাকিমপুরে কী অবস্থা আছে ওখানে। আমাকে কালিমালিপ্ত করতে উনি এটা করতে চাইছেন। উনি যে কাজ করেছেন, তা সম্পূর্ণ একটি অশিক্ষিত কাজ।
শান্তনু আরও অভিযোগ করেন, আমি জানতাম উনি একজন শিক্ষিত মহিলা। উনি জানেন না যে, ওখানে জিরো পয়েন্টে কয়েক হাজার লোক বাস করেন। ওখানে রোজকার জিনিসপত্র নিয়ে যেতে গেলে স্থানীয় টিএমসি-র নেতাদের প্যাড লাগে। ওখানকার নেতাদের প্যাড আছে, সেই প্যাডের মাধ্যমে নিয়ে যায়। নিয়ে যেতে হয়, তা না হলে বিএসএফ ওখানে মালপত্র নিয়ে যেতে দেয় না। ফলে, ওই প্যাড টিএমসি তাদেরই দেয়, যারা ওদের সমর্থন করে।
শান্তনুর আরও অভিযোগ, তাহলে আমাদের লোকগুলো কী করে বাঁচবে। আমাদের তো ওখানে বিধায়কও নেই। আমাদের লোকগুলোকে তো পাস দেওয়া হয় না। শুধু তাই নয়, ওখানে বিয়ের জন্য মেয়ে দেখতে গেলে, কিংবা ছেলে দেখতে গেলে মেয়ে বা ছেলের কর্তৃপক্ষকে বস্ত্র অর্থাৎ সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে চেক করা হয়। এটা দেশের পক্ষে একটা বেইজ্জতির ব্যাপার।
শান্তনুর দাবি, এই অবস্থায় তিনি বিজেপির লোকদের পক্ষে গিয়েছেন, সাধারণ মানুষের পক্ষাবলম্বন করেছেন। আর এটা নতুন কিছু নয়, লুকানোও কিছু নয়। সবাই সব কিছু জানে। সেখানে আমরা আমাদের লোকদের একটা প্যাড দিয়ে দিই। এবারে তারা সেখানে ধান লিখবে, গম লিখবে, না বাফেলো লিখবে সেটা তো তাদের ব্যাপার। এটা তো আর আমি ইস্যু করব না।
মন্ত্রী জোরের সঙ্গে এটা আমাদের দলের লোকদের সুবিধার জন্য। এটা পাচারের জন্য নয়। মহুয়া মৈত্র সম্পূর্ণ অশিক্ষিতের মতো কাজ করেছেন। তাঁর এটা জানা উচিত ছিল, একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এতটা বোকা নয় যে, পাচারের জন্য ৩ কেজি বিফ বা গোমাংস ওখানে লেখা থাকবে। ক্ষোভের সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, এসব করে আমাকে খাটো করে যাবে না। ওদের পার্টিটাই অশিক্ষিত। ওদের সবকিছুর পিছনেই রাজনীতি ঘুরছে। আমার বিরুদ্ধে আরও শক্তপোক্ত তথ্যপ্রমাণ বের করুক ওরা, এসব করে কিছু হবে না।