ভাঙড়ে তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার হুঁশিয়ারিতে উত্তপ্ত রাজনীতি। তৃণমূল হারলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বন্ধ হতে পারে বলে মন্তব্য করে বিতর্ক ছড়ালেন তিনি.

শওকত মোল্লা (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 8 February 2026 17:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাঙড়ে তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার (Shaukat Molla) মন্তব্যে তুঙ্গে বিতর্ক। রাজ্য বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar) ভাতা বাড়ার পর সেই টাকা পাওয়া শুরু করেছেন অনেকে। আর ভোটের আগে এই সিদ্ধান্ত তৃণমূলের বড় প্রচার হাতিয়ার বলেই সর্বত্র আলোচনা চলছে। ঠিক এই সময়েই ভাঙড়ের প্রাণগঞ্জে (Pranganj, Bhangar) একটি প্রস্তুতি সভা থেকে শওকতের সাফ হুঁশিয়ারি, আসন হারালে সরকারি পরিষেবাই বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সভামঞ্চ থেকে শওকত দাবি করেন, ভাঙড়ের যে তিনটি অঞ্চলে তৃণমূল আইএসএফের (ISF) কাছে হেরেছে অর্থাৎ চালতাবেড়িয়া, শানপুকুর ও পোলেরহাট ১— সেখানে নাকি সরকারি ঘরের টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে শওকত বলেন, “বাপের ব্যাটা হলে সেই টাকা উদ্ধার করে নাও। দেখব কত বড় বাপের ব্যাটা।” এমনকী আরও বলেন, “দাদার খাবে আর মামার গাইবে! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) টাকা দেবেন আর তাঁকে নিয়ে সমালোচনা হবে?”
সিএমআরও-র (CMRO) তালিকায় যেসব আইএসএফ কর্মীর নাম রয়েছে, তারা যেন কোনও সরকারি সুবিধা না পায়-দলীয় কর্মীদেক তা দেখে নেওয়ার বার্তা দেন তৃণমূল নেতা। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-সহ নানা সরকারি পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হবে বিরোধী এলাকায়।
স্বাভাবিকভাবেই শওকতের বক্তব্যে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। বিরোধীরা যেমন ক্ষুব্ধ, তেমনই অস্বস্তিতে শাসক দলও। তৃণমূল মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ (Tanmay Ghosh) স্পষ্টই বলেছেন, “এটা দলের অবস্থান নয়। উনি ব্যক্তিগত স্তরে বলছেন। আমরা তো আলিপুরদুয়ার, পূর্ব মেদিনীপুর— বহু জায়গায় হেরেছি। সেখানেও কিন্তু সরকারি পরিষেবার টাকা দেওয়া হচ্ছে। দলের তরফে নিশ্চয়ই ওঁর সঙ্গে কথা বলা হবে।”
বিজেপিও (BJP) সুযোগ হাতছাড়া করেনি। দলের নেতা সজল ঘোষ (Sajal Ghosh) কটাক্ষ করে বলেছেন, “এবার ভোটে তৃণমূল হেরে গেলে এই সব নেতাদের বাড়িকেও শৌচালয় হিসেবে ব্যবহার করা হবে।”