শিক্ষক নিগ্রহের ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও রাজ্যের একাধিক প্রান্তে শিক্ষকদের হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে শাসক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়— বাদ যায়নি কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 17 September 2025 19:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুলের করিডরে পড়ুয়াদের সামনেই হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে (Headmaster , Kakdwip)। চড়, ঘুষি, ধাক্কা—সবই চলেছে প্রকাশ্যে। আর এই গোটা ঘটনাটার মূলে তৃণমূল নেতার ‘দাদাগিরি’ (TMC leader)। তুমুল বিতর্কের মুখে অবশেষে গ্রেফতার করা হল অভিযুক্ত শাসক দলের নেতাকে।
ঘটনা দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের। বীরেন্দ্র বিদ্যানিকেতন স্কুলে পড়ুয়াদের সামনেই শাসক দলের এক পঞ্চায়েত নেতার মারধরের শিকার হন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে হারউড পয়েন্ট থানায় দায়ের হয় এফআইআর। আজ, বুধবার, ক্যানিং স্টেশন থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা ত্রিদিব বাড়ুইকে।
ত্রিদিব শুধু একজন পঞ্চায়েত সদস্যই নন, স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি পদেও রয়েছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে খবর, এই প্রথম নয়—গত এপ্রিল মাসেও একই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মঙ্গলবার স্কুল চলাকালীন ত্রিদিববাবু আচমকা স্কুলে হাজির হন। স্কুলের একাংশে পড়ুয়াদের সামনেই শুরু হয় বচসা। তারপর ঘাড় ধাক্কা দিয়ে স্কুলের করিডর দিয়ে শিক্ষককে টেনে নিয়ে যান তিনি। স্কুল চত্ব্র থেকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় এসডিপিও অফিসের দিকেও। ঘটনায় আতঙ্কিত ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকরাও।
স্কুল লাগোয়া এলাকাতেই আক্রান্ত শিক্ষকের বাড়ি। তাঁর অভিযোগ, বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বিভিন্ন ইস্যুতে। স্কুলের কাজে হস্তক্ষেপ, মিটিংয়ে চাপ সৃষ্টি, এমনকি স্কুলে চাঁদা তোলার দাবিও উঠছিল বলে জানান তিনি।
আজ সকালে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই শিক্ষক। অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। সারাদিন বেপাত্তা ছিলেন তিনি। অবশেষে সন্ধে নাগাদ ক্যানিং স্টেশন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
এই ঘটনার পর স্বাভাবিক ভাবেই চাপের মুখে শাসক দল। দলের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয় ত্রিদিববাবুর বিরুদ্ধে, সেদিকেই নজর এখন সকলের।
উল্লেখ্য, শিক্ষক নিগ্রহের ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও রাজ্যের একাধিক প্রান্তে শিক্ষকদের হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে শাসক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়— বাদ যায়নি কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই।