
শেষ আপডেট: 28 February 2024 12:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া: দলের অন্তর্কলহ নিয়ে বারে বারে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে তৃণমূলকে। তাই লোকসভার আগে জেলাগুলিতে দলের সাংগঠনিক পরিকাঠামোর রাশ শক্ত হাতে ধরতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জঙ্গলমহল সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্ব মেটাতে নেমে পড়েছেন শীর্ষ নেতারা।
কয়েকদিন ধরে পুরুলিয়া জেলা পরিষদের অচল অবস্থার কথা কানে আসছিল শীর্ষ নেত্রীর। এবার পুরুলিয়া সফরে গিয়ে সেই বিবাদই দ্রুত মিটিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মন্ত্রী মলয় ঘটককেই বিবাদ মেটানোর দায়িত্ব দিয়েছিলেন তিনি। তাই নেত্রীর নির্দেশ মতো জেলা নেতৃত্বকে নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলেন মন্ত্রী মলয় ঘটক। মঙ্গলবার সন্ধেবেলায় পুরুলিয়ার একটি বেসরকারি হোটেলে ছিল এই বৈঠক। সেখানে জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে সমাধান সূত্র বের করলেন মলয়বাবু।
প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে বৈঠক। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু, বিধায় সুশান্ত মাহাত, বিধায়ক রাজীব লোচন সরেন, জেলা তৃণমূল সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া এবং পুরুলিয়া জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষরা। সূত্রে খবর, পুরুলিয়া জেলা পরিষদের নতুন সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাত ও সহ-সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠে আসছিল। অনেকের দাবি, তাঁরা কর্মাধ্যক্ষদের সঙ্গে কোনও সহযোগিতা করছিলেন না। তাতে সমস্যা পড়তে হচ্ছিল দলের বাকিদের। জেলা পরিষদের কাজে একপ্রকার অচলবস্থা দেখা দেয়। তাই লোকসভা নির্বাচনে এই অচলাবস্থাই কাটিয়ে তোলাই ছিল শাসকদলের লক্ষ্য।
বৈঠকের পরে মন্ত্রী মলয় ঘটক প্রকাশ্য মুখ খুলতে চাননি। যদিও মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু বলেন, "পুরুলিয়া জেলা পরিষদে যে সমস্যা হয়েছিল, বৈঠকে তার সমাধান করা হল। এবার থেকে ভালভাবে চলবে জেলা পরিষদ।"
প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্তমান রাজ্য তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক শান্তিরাম মাহাত বলেন, "জেলা পরিষদের অন্দরে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে জেলা পরিষদের সকল সদস্য-সদস্যাদের নিয়ে বৈঠকে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা মাধ্যমে সমাধান করা হল।"
এদিন বৈঠককে উপস্থিত ছিলেন সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাত, সহ সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বৈঠক শেষে তাঁরা সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে চাননি। একবারে মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন।