
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 2 July 2024 21:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতারণা করে সরকারি জমি জবর দখলের অভিযোগে গত বুধবার রাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তৃণমূলের ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি ব্লকের সভাপতি দেবাশিস প্রামাণিককে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, বেনিয়মের প্রশ্নে কাউকে রেয়াত করা হবে না।
পুলিশি হেফাজতে থাকা সেই দেবাশিসকে এবার বহিষ্কার করল তৃণমূল। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে একথা জানান তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি মহুয়া গোপ।
মুুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে যেখানে গ্রেফতার সেখানে দল থেকে বহিষ্কার করতে ৬ দিন সময় নেওয়া হল কেন? মহুয়া বলেন, "দলগতভাবে তদন্ত হয়েছে। তারপর উচ্চ নেতৃত্বর নির্দেশেই এই সিদ্ধান্ত।" এক সময়ে জলপাইগুড়ি জেলাপরিষদের কর্মাধ্যক্ষও ছিলেন দাপুটে এই নেতা। বর্তমানে উনি ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি সংগঠনিক ব্লকের সভাপতি ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে?
পুলিশ ও তৃণমূল সূত্রের খবর, দেবাশিসের বিরুদ্ধে সরকারি জমি বেচে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। এমনকী এবিষয়ে যাঁরা প্রতিবাদ করছিলেন তাঁদের প্রাণে মারারও হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। তবে নেতার হুমকি উড়িয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন রাজগঞ্জ ব্লকের বাসিন্দা জুলাপি রায়।
বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীরও কানে যায়। তারপর আর কালক্ষেপ করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গত ২৬ জুন
তৃণমূলের ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি ব্লকের সভাপতি দেবাশিস প্রামাণিককে গ্রেফতার করে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, জমি মাফিয়াদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন তা গত সপ্তাহে নবান্নে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে প্রশাসনকে বলেছিলেন মমতা। তিনিও ওই বৈঠকে এও বলেন, এই মাফিয়াদের সঙ্গে দলের কারও কারও যোগাযোগ রয়েছে। সেই সঙ্গে পুলিশেরও কারও কারও মদত রয়েছে। জমি মাফিয়াদের কারবার বন্ধ করতে পই পই করে বলা সত্ত্বেও জেলা শাসকরা কেন শুনছেন না সে বিষয়েও কৈফিয়ত চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এমনকী দেবাশিসকে গ্রেফতার করার পর প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এও বলেন, "বেনিয়মের প্রশ্নে কাউকে রেয়াত করা হবে না। দেখলেন তো ডাবগ্রামে ব্লক প্রেসিডেন্টকে অ্যারেস্ট করিয়ে দিয়েছি। সরকারি জমি বেচে দিচ্ছিল।"