.webp)
শেষ আপডেট: 30 October 2023 17:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দাবাংয়ের সলমন খান যেন খড়দহের মাটিতে!
রবিবার দুপুরে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল খড়দহ। তাতে প্রাণ হারান এক তৃণমূল কর্মী! প্রকাশ্যে টিটাগড় পুরসভার দুই কাউন্সিলরকে মারামারিতে জড়িয়ে পড়তেও দেখা যায়। যা সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে খড়দহ থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি রাজকুমার সরকার যে রণংদেহী মূর্তি ধারণ করেছিলেন, তাতে এলাকার বাসিন্দারা তাঁকে দাবাং সিনেমার সলমন খানের সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করেছেন। পুলিশ অফিসারের প্রশংসায় মুখর ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিংও।
ইতিমধ্যে ভাইরাল ২ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ। ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে- জটলার মধ্যে শাসকদলের দুই কাউন্সিলরকে রীতিমতো ধমকাচ্ছেন খড়দহ থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি। কথোপকথনটি এরকম।
ওসি বলেন, “রং বাজি করবেন না। লোকের বাড়িতে তালা মারাটা কী?” জবাবে এক কাউন্সিলরকে বলতে শোনা যায়, ‘ওর এগ্রিমেন্ট শেষ হয়ে গিয়েছিল। তাই তালা মেরেছি।’ ওসি পাল্টা বলেন, “আমার কাছে কমপ্লেন করেননি কেন? আপনি কে তালা মারার? আমার এলাকায় এসব দাদাগিরির চলবে না”
তৃণমূলের ওই কাউন্সিলর ওসির এহেন মেজাজ দেখে বলেন, “আমি জনপ্রতিনিধি। আপনি আমাকে চমকাচ্ছেন?” কিন্তু তাতে সামান্য দমেননি অফিসার ইন চার্জ। বরং বলেন, “তোমার মতো ৪৪ জন কাউন্সিলরকে দেখি। বেআইনি কাজ করবে, কাউন্সিলরে কাউন্সিলরে প্রকাশ্যে নির্লজ্জের মতো মারামারি করবে! খুব মোড়ল হয়ে গেছ না!”
জনপ্রতিনিধি হয়ে রাস্তায় মারামারি করছো, গুন্ডারাও এমন করে না! খড়দহ দেখল 'দাবাং পুলিশ'#Khardah #TMC #Clash #westbengal #ArjunSingh #TheWallBangla pic.twitter.com/seVlMSUdLo
— The Wall (@TheWallTweets) October 30, 2023
কাউন্সিলর এ কথা শুনে বলেন, ‘তাহলে ও ক্রাইম করে বেড়াক!’ জবাবে থানার ওসি বলেন, “সেটা আমরা দেখব। আজকে যা করেছ সেটা পাড়ার গুন্ডারাও করে না! ইউ আর অ্যান ইলেকটেড মেম্বার।” এর পরেও কাউন্সিলর কিছু বলার চেষ্টা করছিলেন। তাঁকে থামিয়ে দিয়ে রণংদেহী মুর্তিতে ওসি বলতে থাকেন, “একদম থামো, বাজে কথা বলবে না।”
শাসকদলের কাউন্সিলরকে প্রকাশ্যে ধমক দিচ্ছেন থানার ওসি! শেষ কবে কিংবা আদৌ কখনও এমন ঘটনা দেখেছেন কিনা মনে করতে পারছেন না খড়দহের বাসিন্দারা। ঘটনার পর থেকেই ভাইরাল ওই ভিডিও ক্লিপিংস। সকলে ওসিকে ধন্য ধন্য করছেন। ওসির প্রশংসা শোনা গিয়েছে শাসকদলের নেতা, ব্যারাকপুরের সাংসদ অজুর্ন সিংয়ের কণ্ঠে।
সোমবার এই বিষয়ে অর্জুন নাম না করে নিজের দলের কাউন্সিলরেরই সমালোচনা করে বলেন, “অনেকে ক্ষমতা পেয়ে নিজেদের অতীতটা ভুলে গেছে। তবে নিরীহ তৃণমুল সমর্থকের মৃত্যুর ঘটনায় মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা যাচ্ছে। খড়দহ থানার ওসি রাজকুমার খুব অ্যান্টি ক্রিমিনাল মানসিকতার অফিসার। উনি ঠিক খুনের অপরাধীদের গ্রেফতার করে ফেলবেন।”
দলের গোষ্ঠী কোন্দলের প্রসঙ্গে অর্জুন বলেন, “সাংগঠনিক দিক আমি দেখি না। ওটা তাপস রায় দেখেন। তাই কী জন্য গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সেটা উনি বলতে পারবেন।”