তৃণমূল কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে আগেই আটক করেছে পুলিশ। এবার দলীয় স্তরেও কড়া সিদ্ধান্ত নিল দল।

শেষ আপডেট: 8 February 2026 20:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেআইনি নির্মাণ ঘিরে উত্তেজনা এবং তৃণমূল কাউন্সিলরের লাথিতে বৃদ্ধের মৃত্যু (Barrackpore elderly death allegation)! এমন অভিযোগ আসায় উত্তর ব্যারাকপুরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের (North Barrackpore ward 23) তৃণমূল কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য (Rabindranath Bhattacharya)-কে আগেই আটক করেছে পুলিশ। এবার দলীয় স্তরেও কড়া সিদ্ধান্ত নিল দল (TMC disciplinary action)।
জানা গিয়েছে অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করা করেছে তৃণমূল (TMC councillor suspended)।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন ব্যারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক। তিনি বলেন, স্থানীয় কাউন্সিলর কেন ব্যক্তিগতভাবে এই ঘটনায় জড়িয়ে পড়লেন, তা দলের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় বলেই এই সিদ্ধান্ত। তিনি জানান, প্রশাসন তাদের মতো ব্যবস্থা নেবে এবং আইন আইনের পথেই চলবে।
পেশায় আইনজীবী রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য (Rabindranath Bhattacharya) শুরু থেকেই সমস্ত অভিযোগকেই ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। অভিযোগ অস্বীকার করে কাউন্সিলর আগেই জানিয়েছিলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যে। কাউকে আমি মারিনি। রাজনৈতিক স্বার্থে বদনাম করা হচ্ছে।” তবে এবার দল থেকেই সাসপেন্ড করা হল তাঁকে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
ঘটনাটি ব্যারাকপুর মনিরামপুর এলাকার। স্থানীয় বাসিন্দা তুলসী অধিকারীর (Tulsi Adhikari) পরিবার অভিযোগ করে, তাদের বাড়ির সামনে বেশ কিছুদিন ধরে অবৈধ নির্মাণ (Illegal Construction) চলছিল। শনিবার সেই কাজে বাধা দেন তুলসীবাবু। অভিযোগ, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। অভিযোগকারীর বক্তব্য, সেখানে উপস্থিত হয়েই তুলসী বাবু এবং তাঁর ছেলে হেমন্ত অধিকারীকে (Hemanta Adhikari) মারধর শুরু করেন তিনি।
পরিবারের দাবি, একাধিকবার ঘুষি-চড়ের পর বৃদ্ধকে লাথিও মারা হয়। সেই লাথির আঘাতেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তুলসীবাবু। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট জগদীশচন্দ্র বসু হাসপাতাল (Barrackpore Cantonment Jagadish Chandra Bose Hospital)-এ। সেখানে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের ক্ষোভ, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এমনকি ঘটনার পুনর্নির্মাণ এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয়েছে তদন্ত।