সামান্য কথা কাটাকাটি সংঘর্ষের রূপ নেয়। তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত সেখানে গেলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। তাঁর সামনেই একে অপরের দিকে চেয়ার ছুড়ে দেয় দু'পক্ষের লোকেরাই।

তৃণমূল নেতার সামনেই দলীয় কোন্দল!
শেষ আপডেট: 31 August 2025 16:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের প্রকাশ্যে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল! নিউটাউনের পাথরঘাটা পঞ্চায়েতের অন্তর্গত লস্করআটি বাজারে আয়োজিত এক রক্তদান শিবিরে শাসক দলের দুই গোষ্ঠীর (TMC Clash in Newtown) মধ্যে হঠাৎ অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। সামান্য কথা কাটাকাটি সংঘর্ষের রূপ নেয়। তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত (Sabyasachi Dutta) সেখানে গেলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। তাঁর সামনেই একে অপরের দিকে চেয়ার ছুড়ে দেয় দু'পক্ষের লোকেরাই।
সূত্রের খবর, রক্তদান শিবির চলাকালীন সব্যসাচী দত্তের ঘনিষ্ঠ নেতা বাহার আলী লস্করের অনুগামীদের সঙ্গে দলের আরেক গোষ্ঠী, যা কালো নামে পরিচিত, তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। কথা থেকে হাতাহাতি এবং শেষে চেয়ার ছোড়াছুড়িও করা হয় বলে অভিযোগ। শিবিরে উপস্থিত সাধারণ মানুষ আতঙ্কে চারদিক ছুটোছুটি শুরু করেন।
সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত। তিনি দ্রুত মঞ্চে উঠে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। সব্যসাচী প্রকাশ্যে দুই পক্ষের নেতাদের মঞ্চে ডেকে হাত মেলান এবং ঐক্যের বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ রক্তদান শিবিরের মতো মানবিক কাজে কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর হস্তক্ষেপে মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং অনুষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে।
যদিও গোষ্ঠীকোন্দলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেতা। তাঁর দাবি, 'রক্তদান শিবিরে ঢোকার গেট ছোট হয়ে গেছিল। তাই অনেক লোক একসঙ্গে ঢুকতে গিয়ে সামান্য বিশৃঙ্খলা হয়েছে। দলের মধ্যে কারও সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়নি।'
ঘটনার পর এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সব্যসাচীর উপস্থিতি না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারত। তবে শাসকদলের মধ্যে এই ধরনের প্রকাশ্য সংঘাত নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে। রক্তদানের মতো সামাজিক অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়ায় সমালোচনাও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
শনিবার বর্ধমানের রসিকপুর এলাকায় তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যেই দ্বন্দ্ব দেখা যায়। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে প্রাক্তন যুব সভাপতির বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন বর্তমান যুব সভাপতি। গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, সিসিটিভি ও পাইপলাইন ভেঙে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ।
এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বর্তমান যুব সভাপতি। অন্যদিকে, স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের কথায়, গোটা ঘটনাটি পাড়ার অশান্তি। এর সঙ্গে গোষ্ঠীকোন্দলের কোনও সম্পর্ক নেই।