পুলিশের তরফ থেকে সাফ জানান হয়েছে, রবীন্দ্রনগর এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে বলে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিকে তাঁরা ঢুকতে দেবে না।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 12 June 2025 18:23
প্রিয়ঙ্কা পাত্র এবং সৌপ্তিক ব্রহ্ম, মহেশতলা
মহেশতলার ঘটনা (Maheshtala Incident) আদতে বিজেপির চক্রান্ত। তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) তরফে এমনই অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানকার স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বও বলছে, এই ধরনের ঘটনা এর আগে কখনও ঘটেনি। জোর করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে বিজেপি (BJP)। মহেশতলার অদূরে বিস্ফোরক-সহ আরএসএস-বিজেপি কর্মী গ্রেফতারির ঘটনাকে হাতিয়ার করেছে শাসক দল।
বুধবার রাতের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকেও মহেশতলার পরিস্থিতি বেশ উত্তেজক ছিল। তবে নতুন করে কোনও অশান্তির ঘটনা ঘটেনি। এলাকা থমথমে। রাজ্য পুলিশের তরফে এলাকায় ১০টি পুলিশ পিকেটও বসানো হয়েছে। নতুন করে যাতে উত্তাপ না ছড়ায় তা রুখতে তৎপর পুলিশবাহিনী। এদিকে, আজই ঘটনাস্থলে আসার কথা ছিল বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের (Sukanta Majumder)। কিন্তু তিনি আসার আগেই পুলিশের পক্ষ থেকে নেচার পার্কের মোড়ে ব্যারিকেড করে ঘিরে রাখা হয়। মহেশতলায় যাওয়ার চেষ্টা করলে জিঞ্জিরাবাজারে সুকান্তর গাড়িও আটকে দেওয়া হয়।
পুলিশের তরফ থেকে সাফ জানান হয়েছে, রবীন্দ্রনগর এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে বলে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিকে তাঁরা ঢুকতে দেবে না। এই পরিস্থিতিতে জিঞ্জিরা বাজারে বিজেপি অবস্থান বিক্ষোভ করে। তার জেরে বেশ কিছুক্ষণ অবরোধ চলায় ব্যাহত হয় যান চলাচল।
পথ অবরোধ হওয়ায় সেখানে গেছিলেন মহেশতলা পুরসভার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোপাল সাহা সহ অন্যান্যরা। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনা আদতে বিজেপির চক্রান্ত। বিজেপি এবং আরএসএস-এর সক্রিয় কর্মী বোমার মশলা নিয়ে ধরা পড়া সেটারই প্রমাণ দেয়।
এদিকে, পুলিশের বাধা পেয়ে জিঞ্জিরা বাজার থেকে ফিরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে তুলসী বেদী পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন সুকান্ত মজুমদার। তবে বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছতেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি-সহ দলের অন্য নেতা-কর্মীদের আটক করে পুলিশ। প্রসঙ্গত জানা গেছে, রবীন্দ্রনগর ও নাদিয়াল থানা এলাকায় বুধবারের গোলমালের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মোট ৭টি মামলা রুজু করা হয়েছে।