চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya) দাবি করেন, বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে মাত্র ৪৮টি আসনের পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। এই কারণেই নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে ভোটার তালিকায় কারচুপির মাধ্যমে বাংলা দখলের চেষ্টা করছে মোদী সরকার।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 28 June 2025 21:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়েকদিন আগে সাতগাছিয়ার সভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দাবি করেছিলেন, ২৬-এর বিধানসভা ভোটে বাংলায় বিজেপির আসন সংখ্যা পঞ্চাশের নীচে নেমে যাবে। অভিষেকের ওই চ্যালেঞ্জ যে শুধু কথার কথা ছিল না, শনিবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে তা স্পষ্ট করল বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)।
শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূলের নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya) দাবি করেন, বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে মাত্র ৪৮টি আসনের পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। এই কারণেই নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission) দিয়ে ভোটার তালিকায় কারচুপির মাধ্যমে বাংলা দখলের চেষ্টা করছে মোদী সরকার। চন্দ্রিমার কথায়, "নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতার মুখোশ পরে বিজেপির হয়ে কাজ করছে।"
তিনি কেন এ কথা বলছেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়ে চন্দ্রিমার দাবি, 'স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন'-এর নামে ভোটার তালিকায় পরিবর্তন করা হচ্ছে। কেন হঠাৎ ১৯৮৭-র জুলাইকে বাছা হল? এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট- কিছু নির্দিষ্ট ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া। এটি এনআরসি চালুর ঘুরপথে প্রয়াস।'
তৃণমূলের অভিযোগ, এই নতুন নিয়মে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য পিতা-মাতার জন্ম বৃত্তান্ত চাওয়া হচ্ছে। বহু মানুষ কীভাবে এই নথি জোগাড় করবেন? আগে কি সবাই ইনস্টিটিউশনাল ডেলিভারির মাধ্যমে জন্মেছিলেন? আসলে প্রকৃত ভোটারদের নম্বর দিতে এই কৌশল।
তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের দাবি, 'বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় ওদের আসন সংখ্যা ৪৮-এর বেশি দেখাচ্ছে না। তাই নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে কমিশনকে দিয়ে ভোটার তালিকায় কারচুপি করছে। বিহারের নির্বাচন তো বাহানা মাত্র, আসল লক্ষ্য বাংলার গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা।"
এদিকে বিজেপি যুব নেতার ডাকাতির ঘটনায় উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি। বিজেপি যুব নেতা সোমনাথ সাহুর ডাকাতির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে তৃণমূল বিজেপিকে তুলোধোনা করেছে। কুণাল ঘোষের দাবি, “সোমনাথ সাহুর সঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের ছবি রয়েছে। ডাকাতি করতে পাঠিয়েছিলেন না ভাগাভাগির সেটিং ছিল?”
তৃণমূলের অভিযোগ, “ধর্ষণে অভিযুক্ত কার্তিক মহারাজকে আড়াল করছে বিজেপি। ধর্মের নামে রাজনীতি করে ধর্মকেই কলুষিত করছে তারা।"
তৃণমূলের তরফে স্পষ্ট বার্তা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দল গণআন্দোলনে নামতে প্রস্তুত। কুণাল ঘোষ বলেন, “২০২৬-এ ২৫০-র বেশি আসন নিয়ে বাংলায় চতুর্থবার মা-মাটি-মানুষের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে। বিজেপির কোনও চক্রান্তই তা আটকাতে পারবে না।”