বাংলায় ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের জন্য যখন নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন বড় শর্ত দিলেন লোকসভায় তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 12 August 2025 10:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় ভোটার তালিকায় (West Bengal Voter list) বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) জন্য যখন নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন বড় শর্ত দিলেন লোকসভায় তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁর কথায়, বাংলায় ভোটার তালিকায় সংশোধন হোক, আপত্তি নেই। কিন্তু তার আগে লোকসভা ভেঙে দেওয়া হোক। কেন্দ্রের সরকারও ভেঙে দেওয়া হোক। তার পর গোটা দেশে এক সঙ্গে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন করা হোক।
অভিষেকের বক্তব্য, মাত্র এক বছর আগে লোকসভা ভোটের সময়ে এই ভোটার তালিকাতেই ভোট হয়েছে। তখন ভোটার তালিকা ঠিক ছিল। আর এখন ভোটার তালিকায় ভুয়ো ভোটার ঢুকে গেল? তার মানে যে ভোটার তালিকার উপর ভোট করে নরেন্দ্র মোদী জিতে প্রধানমন্ত্রী হলেন, সরকার বানালেন, অমিত শাহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হলেন, সেটা ঠিক। তার পর বাংলায় ভোট আসতেই সেই তালিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল?
অভিষেকের কথায়, এই ভোটার তালিকা যদি ভুলে ভরা থাকে, তাহলে নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচনও বৈধ নয়, কেন্দ্রের সরকারও বৈধ নয়। তাই স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন যদি করতেই হয়, তবে আগে লোকসভা ভেঙে দেওয়া হোক। তার পর গোটা দেশে নিবিড় সংশোধন হোক ভোটার তালিকায়। এতে কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু বাংলার ভোটার তালিকা ভুল আর গুজরাতের ঠিক, বিহারের ভোটার তালিকা ভুল উত্তরপ্রদেশের ঠিক—এটা চলবে না।
তৃণমূলের মতোই কংগ্রেস, সিপিএম, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, শিবসেনা উদ্ধব শিবির, আরজেডি-র মতো বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন তথা বিশেষ সংশোধনে আপত্তি জানাচ্ছে। মঙ্গলবার এ ব্যাপারে প্রায় ৩০০ জন বিরোধী সাংসদ সংসদ ভবন থেকে মার্চ করে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতর পর্যন্ত যান। কমিশনের দফতর তাঁরা ঘেরাও করেন।
বুধবার এ ব্যাপারে অভিষেক বলেন, গতকাল যেভাবে সাংসদদের বাধা দেওয়া হয়েছে তাতে বোঝা যাচ্ছে কমিশন ভয় পেয়েছে। নইলে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ঠেকাতে এভাবে ব্যারিকেড লাগিয়ে ধাক্কাধাক্কি করা হত। তৃণমূল মহিলা সাংসদরাও এতে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক জানান "এ তো সবে শুরু। এরপর এক লক্ষ লোক নিয়ে নির্বাচন কমিশন দফতর ঘেরাও করা হবে।"
বাংলায় শাসক দলের এই তরুণ নেতা আরও বলেন, কর্নাটকে দেখা গেছে কীভাবে ভোটার তালিকায় ডুপ্লিকেট ভোটার রয়েছে। হাজার হাজার ভোটারের ঠিকানা ভুয়ো। একই ভোটারের নাম চার জায়গায় রয়েছে। আবার মহারাষ্ট্রে দেখা গেছে, লোকসভা ভোটের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই ৪০ লক্ষ ভোটার বেড়ে গেছে। তার পর মহারাষ্ট্রে জিতেছে বিজেপি। ভোটার তালিকা নিয়ে বিজেপির এই খেলা ধরা পড়ে গেছে।