
শেষ আপডেট: 6 February 2023 13:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ত্রিপুরার বিধানসভা ভোটে (Tripura Election) যে এবার তিপ্রা মথা (Tipra Motha) বড় দলগুলির মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠতে চলেছে তা দ্য ওয়াল-এ গত দু’মাস আগেই লেখা হয়েছিল। গোটা ২০ আসনে যে আঞ্চলিক শক্তির উপস্থিতি রয়েছে, সোমবার নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে সেই দলটি নিয়েই বেশি সময় ব্যয় করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
এদিন শান্তিরবাজার মহকুমায় সভা ছিল শাহের। এই এলাকা আগরতলা থেকে অনেক দূরে। আশপাশে জনজাতির আধিক্য রয়েছে। সেই সভা থেকে জনজাতিদের পার্টি তিপ্রা মথার বিরুদ্ধে সিপিএম-কংগ্রেসের (CPM Congress) গোপন আঁতাতের অভিযোগ তুললেন শাহ।
অমিত শাহ বলেন, ‘সিপিএম আর কংগ্রেস ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে ত্রিপুরাকে অন্ধকারে রেখেছিল। তাঁরা এবার জোট করেছে। যারা জনজাতিদের সম্মান করে না, সেই সিপিএম-কংগ্রেসের সঙ্গে গোপন আঁতাত করেছে তিপ্রা মথা। জনজাতি অংশের মানুষ বিজেপির জমানায় অধিকার পেয়েছিলেন। এবারের ভোটে তাঁদের ভাবা উচিত।’
একটা সময় তিপ্রা মথার প্রধান প্রদ্যোৎ দেববর্মনের সঙ্গে দারুণ সম্পর্ক ছিল বিপ্লব দেবের। বিজয়া সম্মিলনীতে বিপ্লবের নেমন্তন্ন রাখতে এসে ২০২০ সালে আগরতলা স্টেট গেস্ট হাউসে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছিলেন প্রদ্যোৎ। সেই সময়ে অনেকে মনে করেছিলেন, বিজেপি-মথা বন্ধু হয়ে উঠতে চলেছে। পরে এডিসি নির্বাচনে মথার জয় সেই ধারণাকে আরও দৃঢ় করেছিল।
কিন্তু রাজনীতিতে কিছুই স্থায়ী নয়। বিপ্লব দেবের গদি যেমন টেকেনি তেমন মথার সঙ্গে বিজেপির সেই সমীকরণও ঘেঁটে গিয়েছে। ভোটের আগেও বিজেপি চেষ্টা করেছিল মথার সঙ্গে বোঝাপড়া করার। কিন্তু তা দাঁড়ায়নি।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, অমিত শাহও হয়তো বুঝতে পারছেন, জোট শরিক আইপিএফটির দুর্বল হওয়াটা আসলে বিজেপির বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনজাতি অংশের ভোট যদি ঢেলে মথার দিকে যায় তাহলে অন্তত ১৫টি আসনে বিজেপিকে মুখ পোড়াতে হবে। বাকি ৪৫টি আসনের মধ্যে থেকে ৩১ পেলে তবেই সরকার হবে। নইলে ত্রিপুরার অবস্থা জগাখিচুড়ি পেকে যেতে পারে। তখন ভোট পরবর্তী অঙ্ক, সমীকরণের খেলা হবে উত্তর-পূর্বের রাজ্যটিতে।
মমতা ত্রিপুরায় পৌঁছলেন, বললেন 'যখন তোমার কেউ ছিল না, তখন ছিলেম আমি’