
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 30 December 2024 20:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার দুপুর। ঘড়ির কাঁটা সবে সাড়ে তিনটে পেরিয়েছে। রানিবাঁধের গোসাঁইডিহির জঙ্গলে বন দফতরের ঘুমপাড়ানি গুলি (ট্রাঙ্কুলাইজার ডোজ) লক্ষ্যভেদ করে ফেলেছে। ১৫ মিনিট অপেক্ষার পর জিনাতের কাছে এগিয়ে গিয়েছিলেন বন দফতরের চার দক্ষ কর্মী। অদূরে ঘুমপাড়ানি বন্দুক তাক করে দাঁড়িয়ে কয়েকজন। যদি বাঘিনি প্রত্যাঘাত করে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে গুলি ছুটে যাবে!
জঙ্গলের ঘাসে নেতিয়ে পড়ে থাকা বিশালাকায় চেহারার বাঘিনির কাছে পৌঁছে একটি সবুজ জাল দিয়ে সবার আগে বেঁধে ফেলা হয়েছিল বাঘিনির মুখ। প্রায় একই সঙ্গে লাইলনের মোটা দড়ি দিয়ে তার দুটি হাত ও পা বেঁধে চটের বস্তার দুদিকে বাঁশ ভরে জিনাতকে আনা হয়েছিল খাঁচাতে।
খাঁচায় ভরার পর হাত, পায়ের দড়ি খুলতেই উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল জিনাত। ইতিমধ্যে ভাইরাল একটি ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, হাতের ও পায়ের দড়ি এবং মুখ থেকে জাল সরাতেই শুধু উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা নয়, সামনে থাকা এক বনকর্মীর দিকে রীতিমতো হাঁ করে এগিয়ে গিয়েছিল সে! সঙ্গে হাড় হিম করা গর্জন। চোখের পলকে বনকর্মী ছিটকে সরে গিয়ে খাঁচার দরজা বন্ধ না করলে রবিবার দুপুরে বাঁকুড়ার জঙ্গলে কী হতে পারত, তা ভাবতে গিয়েও শিউড়ে উঠছেন অনেকেই।
সেই সূত্রে প্রশ্ন উঠে আসছে, তবে কি ঘুম পাড়ানির গুলি অর্থাৎ ট্রাঙ্কুলাইজার ডোজ ঠিকমতো কাজ করেনি? এ ব্যাপারে পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়়ার বনকর্তারা কার্যত মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তবে রবিবার বিকেলের অপারেশনের ভাইরাল ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে একান্ত আলাপচারিতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বনকর্তাদের অনেকেই।
তাঁদের মতে, "বাঘ, বাঘিনি বা হাতির মতো বড় জন্তুর ক্ষেত্রে একবার ঘুমপাড়ানির গুলি লাগার পর ২৪ ঘণ্টা সেই ডোজের প্রভাব থাকে। এজন্য গুলি ছোড়ার পর আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা উচিত ছিল।"
সূত্রের খবর, শুক্রবার পুরুলিয়ার জঙ্গলেও বাঘিনিকে লক্ষ্য করে ঘুম পাড়ানি গুলি ছোড়া হয়েছিল। কিন্তু তা ব্যর্থ হওয়ার পর বাঘিনি যেভাবে স্থান বদলে বাঁকুড়ার বসতি এলাকায় ঢুকে পড়ে তাতে বনকর্তারাও তাকে বাগে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। সম্ভবত, সে কারণেই গুলি লাগার পরে আর বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে চাননি তাঁরা। তবে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে যেকোনও মুহূর্তে যে বড় বিপদ ঘটে যেতে পারতো, তাও মানছেন তাঁরা।