.jpeg)
গ্রাফিক্স- শুভ্র শর্ভিন।
শেষ আপডেট: 27 December 2024 21:30
সুমন বটব্যাল
বড্ড তাড়াহুড়ো করাটাই কি হিতে বিপরীত হয়ে গেল! আর একটু ধৈর্য্য কি ধরা যেত না?
বাঘিনি জিনাত ডেরা বদলাতেই শুক্রবার দিনভর এই প্রশ্নটাই ঘুরপাক খেতে দেখা গেল বন দফতরের কর্তা থেকে কর্মীদের অন্দরে। একান্ত আলোচনায় একথা স্বীকারও করে নিচ্ছেন তাঁরা। বনকর্মীদের কারও কারও মতে, যে পদ্ধতিতে হাতি তাড়ানো হয়, বাঘিনিকে বাগে আনার ক্ষেত্রে সেই একই পদ্ধতি ব্যবহার করতে গিয়েই সবটা বুমেরাং হয়ে গেল!
শনিবার থেকে বান্দোয়ানের রাইকা পাহাড়ে ঘাঁটি গেড়ে থাকা জিনাতকে বাগে আনতে বৃহস্পতিবার সন্ধের পর থেকে হুলাপার্টির পাশাপাশি পুরুলিয়ার গজশস্ত্র বাহিনীকেও (হাই পাওয়ারের লাইট দিয়ে মূলত হাতি তাড়িয়ে থাকে এরা) আনা হয়েছিল। রাতভর মশাল জ্বালিয়ে, সার্চ লাইট জ্বেলে বাঘিনিকে ডেরা থেকে বের করে আনার চেষ্টা করা হয়।
তারপরই শুক্রবার সকালে জানা যায়, অবস্থান বদলে ফেলেছে বাঘিনি। এই মুহূর্তে সে রয়েছে রাইকা পাহাড় থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে মানবাজার-২ ব্লকের ধরমপুরের ( পাঈসা গড়া) ও ডাঙ্গরডি গ্রাম সংলগ্ন জঙ্গলে।
বস্তুত,ক্যাট ফ্যামিলি আইসোলেশন পছন্দ করে। রাইকা পাহাড়ের যে এলাকাটিতে জিনাত ঘাঁটি গেড়েছিল সেটি বেশ নিরিবিলি। পরিবর্তে এখন যে এলাকায় বাঘিনি রয়েছে, সেটি জনবহুল। বেশ কিছু মানুষের বসবাস। ফলে বাঘিনির আগমন ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন বনকর্তারাও।
কারণ, এর নেপথ্যে রয়েছে আরও একটি কারণ। ২০১৫ সালে পুরুলিয়ার কোটশিলায় গ্রামের মধ্যে ঢুকে পড়েছিল একটি চিতাবাঘ। ক্ষুব্ধ মানুষ লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলেছিল সেই চিতাবাঘটিকে। পরে লালগড়ের জঙ্গলেও বাঘকে পিটিয়ে মারার ঘটনা ঘটেছিল। জিনাতের ক্ষেত্রেও তেমনটা হবে না তো? এই প্রশ্নটাই তাড়া করছে বনকর্মীদের। তবে প্রকাশ্যে এবিষয়ে কেউ কোনও মন্তব্য করতে চাইছেন না।
ভুল পদ্ধতি অবলম্বনের ফলেই বাঘিনি ডেরা বদল করেছে, এই 'তত্ত্ব'ও মানতে চাননি বন দফতরের দক্ষিণ-পশ্চিম চক্রের মুখ্য বনপাল বিদ্যুৎ সরকার। তাঁর দাবি, "গজশস্ত্র নিয়ে অভিযানের আগেই বাঘিনি ডেরা বদলেছে।" একই সঙ্গে তিনি এও জানান, "যে জঙ্গলে বাঘিনি রয়েছে, সেখানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কীভাবে বাঘিনিকে খাঁচাবন্দি করা যায়, তা নিয়ে একাধিক পরিকল্পনাও করা হয়েছে।"
তবে বন দফতরের অন্য একটি অংশের দাবি, যে জঙ্গলে বাঘিনি রয়েছে তার আশেপাশে প্রচুর হরিণও রয়েছে। সম্ভবত সে কারণেও সে ঘাঁটি বদলাতে পারে। এই সূত্রে বন কর্তাদের আরও একটি বিষয় ভাবাচ্ছে।
তাহল মানবাজারের পর বাঘিনির গন্তব্য কী হবে? ইউটার্ন নিয়ে রাইকা পাহাড়ের দিকে ফিরবে নাকি আবারও সামনের দিকে এগোবে জিনাত? কারণ, ওড়িশা থেকে ঝাড়গ্রাম হয়ে বান্দোয়ান, জিনাতের দীর্ঘপথে এখনও একবারও ইউটার্ন নেই। ফলে এবার যদি সোজা সামনের দিকে এগোয় তাহলে পরিস্থিতি যে আরও জটিল আকার নেবে, তা বলাইবাহুল্য।