
গ্রাফিক্স- শুভ্র শর্ভিন।
শেষ আপডেট: 25 December 2024 22:58
সুমন বটব্যাল
ক্রিসমাস ইভ বা বড়দিন উপলক্ষ্যে রাজ্যজুড়ে উৎসবের মেজাজ। পার্কস্ট্রিট থেকে দিঘা-মন্দারমণি, দিকে দিকে পিকনিকে ব্যস্ত রাজ্যবাসী। বান্দোয়ানের রাইকা পাহাড়েও ব্যস্ততা তুঙ্গে। তবে এ ব্যস্ততা বাঘিনিকে নাগালে আনার!
শনি থেকে বুধ- পুরুলিয়ার পাহাড়ে-জঙ্গলে ঘাঁটি গেড়েছে বাঘিনি জিনাত। শত চেষ্টাতেও তাকে বাগে আনতে পারছে না বন দফতর।
বুধবার সন্ধ্যে সাড়ে ৬টা, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এখনও বন দফতরের টোপে পা দেয়নি বাঘিনি। পরিবর্তে জঙ্গল থেকে নিজের মতো করে খাদ্য সংগ্রহ করে নিচ্ছে সে। বনকর্মীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পাহারায় নেমেছেন গ্রামবাসীরাও। ক্রমেই ধৈর্যচ্যুতি হচ্ছে তাঁদের। পরিস্থিতি সামলাতে ইতিমধ্যে সুন্দরবনের স্টাইলে জাল দিয়ে ঘেরা হয়েছে রাইকা পাহাড় সংলগ্ন রাহামদা গ্রামকে।
তবে এত সবের মধ্যেও বনকর্মী-গ্রামবাসীদের মুখে হাল্কা রসিকতাও ঘুরছে। এক বনকর্তার কথায়, "ওড়িশার ময়ুরভঞ্জের এই বাঘিনি বাংলায় ঢুকে না পড়লে হয়তো এবারের বড়দিনটা অন্যভাবে কাটতো!"
বাঘিনির ক্রিসমাস সেলিব্রেশন নিয়ে কৌতূহল রয়েছে গ্রামবাসীদের মধ্যেও। তাঁদের আলোচনাতেও উঠে আসছে, খাঁচার পোষ্য তো বাঘিনি খেল না, তাহলে কী দিয়ে সে ক্রিসমাসের সেলিব্রেশনের সারলো!
সেই সূত্রে জানা যাচ্ছে, এদিন নতুন করে চারটি ছাগল নিখোঁজ হয়েছে। যা থেকে মনে করা হচ্ছে, পুরুলিয়ার জঙ্গলের শালপাতা খাওয়া হৃষ্টপুষ্ট ছাগল দিয়েই ক্রিসমাসের সেলিব্রেশন সারল বাঘিনি।
তবে বাঘিনিকে নাগালে আনতে মঙ্গলের পর বুধবার পুরুলিয়ার জঙ্গলে রাজকীয় ডিনারের আয়োজন করছে বন দফতর। খাঁচায় একাধিক ছাগলের পাশাপাশি রাখা হয়েছে বুনো মোষ ও বুনো শুয়োর। সঙ্গে কড়া নজরদারির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তবে এসবের পরও বাঘিনি ধরা দেয় কিনা, তার সদুত্তর মিলবে সময়েই।
রসিকতার সুরে এক বনকর্তার আক্ষেপ, 'বাঘিনির খামখেয়ালিপনার জেরে এবারে আমাদের বড়দিনটা মাঠেই মারা গেল'!