
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 27 December 2024 13:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দূর থেকে দেখলে মনে হবে জংলি গাছ! নাহ্, জংলি পোশাকের আস্ত মানুষ! হাতে তাক করা ঘুম পাড়ানি রাইফেল। বাঘিনিকে বাগে আনতে সুন্দর করে জঙ্গলের গাছ পালা দিয়ে এভাবেই একাধিক বনকর্মীকে রাতভর 'অপারেশনে' লাগিয়েছিল বন দফতর।
হুলাপার্টি ছিলই, আনা হয়েছিল পুরুলিয়ার গজশস্ত্র বাহিনীকেও (হাই পাওয়ারের লাইট দিয়ে মূলত হাতি তাড়িয়ে থাকে এরা)। ছিলেন সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের দক্ষ কর্মীরাও। কিন্তু সব চেষ্টায় জল ঢেলে, সকলের অলক্ষ্যে শুক্রবার ভোরে নিজের অবস্থান বদলে ফেলেছে জিনাত!
বন দফতর সূত্রের খবর, বান্দোয়ানের রাইকা পাহাড় থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে মানবাজার-২ ব্লকের ধরমপুরের ( পাঈসা গড়া) ও ডাঙ্গরডি গ্রাম সংলগ্ন জঙ্গলে রয়েছে বাঘিনি। এলাকাটি জনবহুল। বেশ কিছু মানুষের বসবাস। ফলে বাঘিনির আগমন ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ইতিমধ্যে বন দফতরের ১৫টি টিমের প্রশিক্ষিত সদস্যরা গ্রাম সংলগ্ন জঙ্গলে নজরদারি শুরু করেছেন। তা সত্ত্বেও বাসিন্দাদের মধ্যে থেকে আতঙ্ক দূর হচ্ছে না। রাইকা পাহাড় সংলগ্ন গ্রামের মতো ধরমপুরের জঙ্গল সংলগ্ন গ্রামগুলিও সুন্দরবনের আদলে জাল দিয়ে ঘেরার ভাবনা রয়েছে বনকর্তাদের।
পরিসংখ্যান বলছে, অতীতে পুরুলিয়ার কোটশিলায় একটি চিতাবাঘকে পিটিয়ে মেরেছিলেন গ্রামবাসীরা। বাঘিনি লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসায় সেই আশঙ্কাও বাড়ছে।
বন দফতরের দক্ষিণ-পশ্চিম চক্রের মুখ্য বনপাল বিদ্যুৎ সরকার বলেন, "বাঘিনির অবস্থান বদলেছে। আমরা নজর রাখছি। অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।"
ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ থেকে পায়ে হেঁটে ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ির কাঁকড়াঝোড়-ময়ূরঝর্ণার জঙ্গলে ঘুরে গত শনিবার থেকে বান্দোয়ানের রাইকা পাহাড়ে আস্তানা গেড়েছিল বাঘিনি। এবার অবস্থান বদলে লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসায় কী হয়, কী হয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।