
গ্রাফিক্স- শুভ্র শর্ভিন।
শেষ আপডেট: 24 February 2025 19:06
সুমন বটব্যাল
২০ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর, বর্ষশেষে টানা ১০ দিন ঝাড়গ্রাম-পুরুলিয়া-বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের একাংশে দাপিয়ে বেড়িয়েছিল বাঘিনি জিনাত। মাঝের ক'দিন আশ্রয় নিয়েছিল পুরুলিয়ার রাইকা পাহাড়ে।
শেষমেশ ঘুমপাড়ানি গুলিতে বাঘিনিকে জব্দ করে ওড়িশায় পাঠিয়েছিলেন বনকর্তারা।
কিন্তু তারপর থেকেই রাইকা পাহাড় সংলগ্ন পুরুলিয়ার জঙ্গলে বেড়ে গিয়েছে বাঘের আনাগোনা! গত শনিবার ফের পুরুলিয়ার বান্দোয়ান লাগোয়া মানবাজার-২ নং ব্লকের নেকড়ে গ্রামের জঙ্গলে দেখা গিয়েছে একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘকে (Tiger again in Purulia)। বন দফতরের তথ্য অনুযায়ী, বাঘিনির পুরুলিয়া সফরের পর থেকে অন্তত পাঁচবার বাঘের উপস্থিতি মিলল এই তল্লাটে!
স্বভাবতই বনকর্মীদের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে, শুধুই কি বনাঞ্চল গভীর হওয়ার কারণে, নাকি সেই প্রথম বাঘিনির টানে, তারই খোঁজে ঘনঘন রাইকা পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় হাজির হচ্ছে বাঘ মামা! নেপথ্যে কি কোনও অধরা প্রেম-কাহিনি?
বাংলায় পা রাখা ইস্তক যাকে বলে বনকর্তাদের নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরিয়েছিল বাঘিনি জিনাত। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ওপরতলা থেকে জেলার বনকর্তাদের কাছে নির্দেশ পৌঁছেছে, বাঘ সংক্রান্ত বিষযে মিডিয়ার সঙ্গে কোনও কথা বলা যাবে না। অগত্যা, অফিসিয়ালি কোনও কর্তার প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ফোন বেজে গিয়েছে বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদারও।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বনকর্তা বললেন, ‘শুধুই জঙ্গলের টানে হলে, বাঘ আগেও পুরুলিয়ায় আসতে পারত। এমনকী ২০১৮ সালে এসেওছিল। কিন্তু এত ঘনঘন একই জায়গায় বাঘের আগমন থেকে স্পষ্ট, বাঘিনির সন্ধানেই বারেবারে সে রাইকা পাহাড়ের আশপাশে চলে আসছে পাগল প্রেমিকের মতো।’
ওই বনকর্তা আরও বলেন, সাধারণত বন্যপ্রাণীদের শরীরে ফেরোমন হরমোন, যে গন্ধে কিনা বিপরীত লিঙ্গ আকর্ষিত হয়, সেই ফেরোমন খোলা হাওয়ায় ১৪ থেকে ১৫ দিন স্থায়ী হয় মেরেকেটে। তবে এ ক্ষেত্রে জিনাতের ফেরোমন আরও বেশি দিন স্থায়ী হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। আর তার গন্ধেই জিনাতের বসবাস করা একাধিক জায়গায় দৌড়ে বেড়াচ্ছে বাঘটি।
তবে জিনাতের খোঁজে একটি বাঘই, থুড়ি, প্রেমিকই বারেবারে আসছে নাকি একাধিক বাঘের আগমন, তা নিয়ে অবশ্য বিতর্ক রয়েছে।
তবে হদিশ পাওয়া গেলেও জিনাতের প্রেমিককে এখনও পাকড়াও করতে পারেননি বনকর্তারা। বন দফতরের একটি সূত্রের দাবি, রবিবার রাইকা পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় বাঘের পায়ের ছাপ দেখা গিয়েছে। যা থেকে অনুমান করা হচ্ছে, রাইকা পাহাড়েই লুকিয়ে রয়েছে জিনাতের আশিক।
বন দফতরের দাবি, রাইকা পাহাড় ছোট এলাকা নয়। এই পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গলের ঘনত্ব খুবই বেশি। ফলে বাঘের গতিবিধি সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।