
গ্রাফিক্স- শুভ্র শর্ভিন।
শেষ আপডেট: 24 February 2025 15:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৩৬ দিনের ব্যবধানে পাহাড়ে-জঙ্গলে ঘেরা পুরুলিয়ায় আবার বাঘের আতঙ্ক (Tiger again in Purulia)!
শনিবার সন্ধে থেকে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বান্দোয়ান লাগোয়া মানবাজার-২ নং ব্লকের নেকড়ে, বড়কদম, লালডুংরি, কিস্টপুর, কুমিরাডি, হাতিরামগোড়া-সহ একাধিক গ্রামে। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গীন যে সূর্য ঢোবার আগেই ঘরবন্দি হয়ে যাচ্ছেন বাসিন্দারা। পারতপক্ষে সকলেই এড়িয়ে চলছেন জঙ্গলপথ।
বস্তুত, শনিবারই শেষ হয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। ৩ মার্চ থেকে শুরু হবে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। শেষ হবে ১৮ মার্চ। তার আগে এলাকায় নতুন করে বাঘের উপস্থিতি ঘিরে শোরগোল তৈরি হয়েছে। বিষয়টি শোনার পর থেকেই বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা করেছে বন দফতর। তবে বাঘের 'অবস্থান' নিয়ে অদ্ভূত নীরবতা পালন করছেন বনকর্তারা। অফিসিয়ালি মন্তব্য করতে চাইছেন না তাঁরা। এক আধিকারিকের কথায়, "ওপর থেকে অর্ডার আছে। বাঘের অবস্থান নিয়ে মিডিয়াকে কিছু বলা বারণ আছে!"
কেন? ওই বনকর্তার ব্যাখ্যা, "বর্ষশেষে বাঘিনি জিনাতকে নিয়ে আপনারা (মিডিয়া) যেভাবে লাফালাফি শুরু করেছিলেন, তাতে অতো ক্যামেরা দেখে বাঘিনিও ঘাবড়ে গিয়েছিল। অতিরিক্ত প্রচারের জেরে গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্কও বেড়েছিল। তাই বন্যপ্রাণের সুরক্ষার কথা ভেবেই অবস্থান জানানো যাবে না।"
স্থানীয় সূত্রের খবর, শনিবার সন্ধেয় মোটরবাইকে করে বাড়ি ফেরার সময় জঙ্গল রাস্তায় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের সামনে পড়ে গিয়েছিলেন নেকড়ে গ্রামের দিলীপ কুম্ভকার। দিলীপের কথায়, "আপন মনে গাড়ি চালাচ্ছিলাম। হঠাৎই ১৫ ফুট দূরে জঙ্গলের রাস্তা পেরোতে দেখি একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘকে! মুহূর্তের জন্য আত্মারাম খাঁচাছাড়া হয়ে গিয়েছিল! কোনওমতে ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে যায়! তবে বাঘটি ফিরেও তাকাইনি, না হলে কী যে হত!"
চোখ বন্ধ করলে এখনও সেই ছবি ভেসে উঠছে দিলীপের স্মৃতিতে। বলছিলেন, "চোখ বন্ধ করলেই ওই দৃশ্যটা ভেসে উঠছে। দু'রাত ঠিক করে ঘুমোতে পারিনি।"
প্রাণ হাতে নিয়ে গ্রামে ফেরার পর জিনাতের আশিকের আগমনের খবর সকলকে দিয়েছিলেন দিলীপ। লাঠি, সোটা নিয়ে সে রাতেই জঙ্গলপথে বেরিয়ে একাধিক জায়গায় বাঘের পায়ের ছাপও চাক্ষুষ করেন স্থানীয়রা। রবিবারও বাঘের পায়ের ছাপের দেখা মিলেছে নেকড়ে, সহ বেশ কয়েকটি গ্রামে।
এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি সন্ধেয় এই নেকড়ে গ্রামেই একটি পূর্ণ বয়স্ক বাঘের দেখা পেয়েছিলেন জানিঝোড় গ্রামের বাসিন্দা যুধিষ্ঠির মাহাতো। ৩৬ দিনের ব্য়বধানে আবার দেখা মিলল বাঘের। দুটি বাঘ একই কিনা তা অবশ্য স্পষ্ট নয়।