দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি সক্রিয় ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে, যা এখন দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ঝুঁকছে। তবে এখনই ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বঙ্গোপসাগরের ওপর এখনও পর্যন্ত মৌসম ভবন কোনও ঝড়ের সতর্কতা জারি করেনি।

ছবি- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 19 May 2025 10:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে গ্রীষ্মের অস্বস্তিকর গরমের মাঝেই আরও কয়েকদিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির দাপট বজায় থাকবে বলে জানাল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গ— দুই প্রান্তেই সক্রিয় একাধিক ঘূর্ণাবর্ত এবং নিম্নচাপ অক্ষরেখার কারণে শুক্রবার,২৪ মে পর্যন্ত রাজ্যের প্রায় সব জেলাতেই বিক্ষিপ্তভাবে ঝড়বৃষ্টি চলবে। পাশাপাশি, মৌসুমি বায়ুও এগিয়ে আসছে পূর্বাভাসের নির্ধারিত সময়ের আগেই, যার ফলে বৃষ্টি বাড়তে পারে আগামিদিনে।
দক্ষিণবঙ্গের সকাল শুরু হচ্ছে আংশিক মেঘলা আকাশ ও তীব্র অস্বস্তি নিয়ে। বাতাসে জলীয় বাষ্প থাকায় ঘেমেনেয়ে বাজে অবস্থা সাধারণ মানুষের। আজ, সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত কলকাতা-সহ প্রায় সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ৩০ থেকে ৪০ কিমি প্রতি ঘণ্টা বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায়। অস্বস্তি বজায় থাকবে এই ক'দিনও।
আজ কলকাতায় দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, গতকাল সর্বোচ্চ ছিল ৩১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের নীচে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা রয়েছে ৬৪ থেকে ৯২ শতাংশের মধ্যে। দুপুর গড়াতেই গরম ও অস্বস্তির মাত্রা বাড়বে। বিকেলের দিকে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গে সমস্ত জেলাতেই বিক্ষিপ্তভাবে ঝড়বৃষ্টির হবে শুক্রবার পর্যন্ত। সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। মঙ্গলবার আবহাওয়া খারাপ হতে পারে আরেকটু। জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও উত্তর দিনাজপুরে ঘণ্টায় ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
তিন দিনের মধ্যে উত্তরবঙ্গে তাপমাত্রা বেশ কিছুটা নামবে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই থাকবে।
১৩ মে নির্ধারিত সময়ের পাঁচ দিন আগেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ও দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করেছে। আগামী তিন–চার দিনের মধ্যে মৌসুমি বায়ু দক্ষিণ আরব সাগরের কিছু অংশ, মলদ্বীপ, কোমোরিন অঞ্চল এবং মধ্য বঙ্গোপসাগরের বিস্তৃত অংশে ঢুকে পড়বে বলে জানিয়েছে মৌসম ভবন।
এদিকে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি সক্রিয় ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে, যা এখন দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ঝুঁকছে। তবে এখনই ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বঙ্গোপসাগরের ওপর এখনও পর্যন্ত মৌসম ভবন কোনও ঝড়ের সতর্কতা জারি করেনি।
পাঞ্জাব থেকে শুরু করে মধ্যপ্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ হয়ে উত্তর বাংলাদেশ পর্যন্ত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। পাশাপাশি, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, তেলঙ্গানা এবং অসমেও সক্রিয় ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে, যা বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।
অসম, মেঘালয়, কর্নাটক, অরুণাচল প্রদেশ, কেরল, তামিলনাড়ু, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, অন্ধ্রপ্রদেশ, সিকিম-সহ একাধিক রাজ্যে প্রবল বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, রাজস্থান, ওড়িশা ও মধ্যপ্রদেশের কিছু অংশে তাপপ্রবাহ ও ধুলিঝড়ের সতর্কতা রয়েছে। শ্রীলঙ্কা উপকূল ও দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সমুদ্র উত্তাল থাকবে। কেরল ও কর্নাটকের উপকূলেও ৪৫–৫৫ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।