ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন বনদফতর ও রেলের আধিকারিকরা। শুরু হয় উদ্ধারকাজ। ক্রেন দিয়ে হাতিগুলির মৃতদেহ লাইনের পাশ থেকে সরানো হয়।

প্রতীকী ছবি (সংগৃহীত)
শেষ আপডেট: 18 July 2025 11:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঝাড়গ্রাম রেঞ্জে ফের ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তিনটি হাতির। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বাঁশতলা স্টেশনের কাছে জনশতাব্দী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় মৃত্যু হয় একটি পূর্ণবয়স্ক হাতি ও দুটি হস্তিশাবকের। ঘটনায় স্তব্ধ বনদপ্তর ও রেল মহল। স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। বনদপ্তরের গাফিলতি, রেলের অসতর্কতা, দায় এড়াতে পারছে না কেউই।
বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১টা নাগাদ, ঝাড়গ্রাম থেকে খড়গপুরগামী জনশতাব্দী এক্সপ্রেস বাঁশতলা স্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছনোর সময়েই ঘটে বিপত্তি। বাঁশতলা রেললাইনের তিন দিকেই জঙ্গল। ওই এলাকায় গতরাতে হাতি ড্রাইভ চালাচ্ছিলেন বনদপ্তরের আধিকারিক ও হুলা পার্টির সদস্যরা। আচমকাই একটি পূর্ণবয়স্ক হাতি ও দুটি ছানা লাইনে উঠে পড়ে। দ্রুত গতিতে ছুটে আসা ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিনটি হাতির।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন বনদফতর ও রেলের আধিকারিকরা। শুরু হয় উদ্ধারকাজ। ক্রেন দিয়ে হাতিগুলির মৃতদেহ লাইনের পাশ থেকে সরানো হয়। বেশ কিছুক্ষণ ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে, পরে পরিষেবা স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হুলা পার্টির সদস্যদের নিয়োগ না করায় বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। বনদফতরও তেমন সক্রিয় নয় বলেই দাবি তাঁদের।
এদিকে বনদফতরের এক শীর্ষ আধিকারিক দায় চাপায় রেলের উপর। তাঁর পাল্টা দাবি, 'পুরোটাই রেলের অসতর্কতার ফল।' তিনি জানান, বনদফতরের তরফে বৃহস্পতিবার রাত ১১টা নাগাদ রেলকে সতর্ক করা হয়েছিল যে হাতির দল ওই লাইনের আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। তা সত্ত্বেও ট্রেনের গতি কমানো হয়নি।
বন দফতরের দাবি, আগের সমস্ত রিভিউ মিটিংয়েও রেলকে এই বিষয়ে বারবার সতর্ক করা হয়েছে, কিন্তু রেল কোনও কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে এবার তারা কড়া পদক্ষেপ করতে পারে বলে সূত্রের খবর।
এনিয়ে এখনও মুখ খোলেনি রেল। ঘটনার পরে গোটা বাঁশতলা ও আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া।