দ্য ওয়াল ব্যুরো : মঙ্গলবার বিহারে দ্বিতীয় দফায় ভোট হচ্ছে ৯৪ টি আসনে। দেশে করোনা অতিমহামারী শুরু হওয়ার পরে এই প্রথম কোনও বড় রাজ্যে ভোট হচ্ছে। এদিন বিহারে চতুর্থবারের জন্য ভোট প্রচারে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত যা ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে, তাতে বোঝা যায়, বিহারে চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় আসতে চলেছে এনডিএ।
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, "বিহার একটা পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমরা যে তথ্য পাচ্ছি, তাতে মনে হয়, এই রাজ্যে চতুর্থবারের জন্য এনডিএ নির্বাচিত হতে চলেছে। ভোটাররা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, রাজ্যকে নতুন উচ্চতায় তুলে নিয়ে যাবে।"
আরজেডি নেতৃত্বাধীন জোটের সমালোচনা করে মোদী বলেন, "যারা একসময় বিহারে জঙ্গলরাজ এনেছিল, তারা কী চায়? তাদের বন্ধুরা কী চায়? তারা চায়, আপনারা যেন ভারত মাতা কি জয় উচ্চারণ না করেন। এই পবিত্র ভূমিতে দেবী ছটের পুজো করা হয়। এখানে কেউ জাতির জন্য স্লোগান দেবে না, তা কি হয়?"
বাম ও কংগ্রেস জোটের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "একটি গোষ্ঠী বলে, ভারত মাতা কি জয় স্লোগান দেওয়া চলবে না। আর একটি গোষ্ঠী বলে, ওই স্লোগান শুনলে তাদের মাথায় ব্যথা হয়। এখন দু'টি গোষ্ঠী একজোট হয় বিহারের মানুষের ভোট চাইছে। তারা চায় না আপনারা জয় শ্রীরাম উচ্চারণ করুন।"
এখনও পর্যন্ত বিহারে ১২ টি জনসভা করেছেন মোদী। তাঁর একটি সভায় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জেডি ইউ নেতা নীতীশ কুমার। তিনি রাজ্যে চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী পদে প্রার্থী হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ভোটের আগেই এনডিএ ছেড়েছে চিরাগ পাসোয়ানের দল এলজেপি। চিরাগ অবশ্য মোদীর প্রতি তাঁর আনুগত্যের কথা জানিয়েছেন। মোদী বিহারে ভোট প্রচারে এসে একবারও চিরাগের সমালোচনা করেননি।
প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেন, "অনেকে বলে, মোদী কেন ভোটে জেতে? মোদী গরিব মা-বোনেদের সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করে। তাই সে ভোটে জেতে।" পরে তিনি বলেন, "এখন রাজনীতিতে আর স্বজনপোষণ চলবে না। সর্বত্র গণতন্ত্রের জয় হচ্ছে। ঔদ্ধত্যের পরাজয় হচ্ছে। কঠিন পরিশ্রমের জয় হচ্ছে। দুর্নীতির পরাজয় হচ্ছে। মানুষের অধিকারের জয় হচ্ছে।"
আরজেডি-র সমালোচনা করে মোদী বলেন, একসময় বিরোধীরা গণতন্ত্রের নামে প্রহসন চালাত। বিহারের মানুষ সেই দিনগুলির কথা ভুলবে না। তখন ভোটে সর্বত্র হিংসাত্মক ঘটনা ঘটত। মানুষ মারা যেত। বুথ দখল করা হত। এনডিএ-র আমলে গরিবের সম্মান ফিরে এসেছে।