দ্য ওয়াল ব্যুরো: অমৃতসর থেকে কৃষক আন্দোলনে যোগ দিতে এসেছিলেন ৫ বন্ধু। ঠিক করেছিলেন, কৃষকদের জন্য একটি লঙ্গর চালু করবেন তাঁরা। কিন্তু শনিবার শীতের সকালে এসে পৌঁছনোর পরে রাঁধাবাড়ার সময়ে না মেলায় তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, লঙ্গর হবে অন্যরকম। হরিয়ানার একটি মল থেকে ৪০০ পিৎজা অর্ডার করেন তাঁরা। সেগুলিই সিঙ্ঘু বর্ডারে আন্দোলনরত কৃষকদের মধ্যে ভাগ করে দেন। বলাই বাহুল্য, কয়েক মিনিটেই উড়ে যায় পিৎজার স্তূপ।
এই নিয়েই বিতর্ক ঘনিয়েছে দু'দিন ধরে। সমালোচনা করা হয়েছে আন্দোলনের। পিৎজার মতো কুলীন খাবার খেয়ে কৃষকদের আন্দোলনের বিরোধিতা করেছেন অনেকেই। কিন্তু 'পিৎজা লঙ্গর' আয়োজনকারী যুবক শানবীর সিং সান্ধুর সাফ বক্তব্য, "যে কৃষকদের জন্য আমরা ময়দা মাখতে পারি, পিৎজা বানানোর উপকরণ যাঁদের কাছ থেকে পেতে পারি, তাঁরা পিৎজা খেতে পারবেন না কেন!"
অমৃতসরের গুরু নানক দেব বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকোনমিক্স বিভাগের ছাত্র শানবীর। একইসঙ্গে, বংশপরম্পরায় তিনি এক কৃষকও। তাই যোগ দিতে এসেছিলেন আন্দোলনে। তিনি আরও বলেন, "আমাদের ডাল-রুটি রান্না করার সময় ছিল না ওই দিন। তাই আমরা নিজেরাই ঠিক করি, পিৎজা খাওয়ানো হোক কৃষকদের। এতে কী অসুবিধা আছে!"

শানবীরের সঙ্গে আসা এক বন্ধু শাহনাজ গিলও বলছেন, "রোজ একই খাবার খেয়ে খেয়ে একঘেয়ে হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে একটু অন্যরকম খাবার খেলে ওঁদের মানসিক শক্তিও তো বাড়বে। এই পিৎজার উপকরণও তো কৃষকদের সৃষ্টি। এ নিয়ে আপত্তি অনর্থক।"
সময় না থাকার কারণে হঠাত করে এই পিজ্জা খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, এতে খুশি শানবীর ও তাঁর বন্ধুরা। অন্যরকম একটা কিছু করতে পারায় আনন্দিত তাঁরা। আন্দোলনকারী মানুষরাও খুবই খুশি হয়েছেন পিৎজা খেয়ে।
দু'সপ্তাহেরও বেশি সময় হয়ে গেল, দিল্লির সীমান্ত এলাকা সিঙ্ঘু-তে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন হাজার হাজার কৃষক। তাঁদের দাবি, নয়া কৃষিবিল প্রত্যাহার করতে হবে। এ দাবি মানতে নারাজ সরকার। তাঁরা আইন সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছেন, কিন্তু তা খারিজ করেছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁরা আই প্রত্যাহারের দাবিতেই অনড়। অভিযোগ, এ আইন চালু হলে কৃষিক্ষেত্রের লাভের গুড়ের সিংহভাগই যাবে কর্পোরেট ব্যবসায়ীদের ঘরে। কৃষকরা বঞ্চিত হবেন তাঁদের প্রাপ্য থেকে।

যত দিন গড়াচ্ছে আন্দোলন স্তিমিত হওয়ার বদলে তেজ বাড়ছে তার। রোজই বহু মানুষ এসে যোগ দিচ্ছেন ময়দানে। শানবীর ও তাঁর সঙ্গীরাও তেমনই এসেছিলেন। তবে খালি হাতে না এসে কিছু করতে চেয়েছিলেন তাঁরা কৃষকদের জন্য।
শানবীর বলেন, "কৃষকদের পিৎজা খাওয়া নিয়ে ব্যঙ্গ করা খুবই কুরুচিকর মানসিকতার পরিচয়। আসলে কিছু মানুষ এখনও এটা মেনেই নিতে পারেন না, যে কৃষকদের গাড়ি থাকতে পারে, তাঁরা আধুনিক পোশাক পরতে পারেন, পিৎজা খেতে পারেন। সত্যি কথা বলতে, কৃষকরা ধুতি-পাঞ্জাবি থেকে জিন্স-টিশার্টে পৌঁছে গেছেন, কিন্তু কিছু মানুষের মানসিকতা এখনও সেই তিমিরেই আছে।"
তাঁর সঙ্গী শাহনাজের কথায়, "একজন কৃষক নিজেই খাবার উৎপন্ন করেন। কারও অধিকারই নেই তাঁর খাবার নিয়ে কথা বলার। যাঁরা দূর থেকে এসব বলছেন, তাঁরা বরং একবার এখানে এসে আমাদের সঙ্গে কথা বলুন। তাঁরা দেখুন, আমাদের ভাবনাচিন্তা তাঁদের থেকে অনেক ভাল।"
তবে সমালোচনা যতই হোক, শানবীর-শাহনাজদের তাতে কিছুই যায় আসে না। তাঁরা নিজেদের জবাব তো দিয়েছেনই, সেই সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কৃষকদের জন্য আরও বড় করে ভাল পিৎজার লঙ্গরের আয়োজন করবেন তাঁরা।